নারদা মামলা নিয়ে ফের তদন্তে গতি বাড়িয়েছে সিবিআই। একে একে ডাকা হচ্ছে তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের। অথচ স্টিং অপারেশনে দেখা গেলেও নারদাকাণ্ডে সিবিআই তলব করেনি মুকুলকে। নিজেই সেই কথা জানালেন এই বিজেপি নেতা।

একদিন নয়, সারদা মামলায় দুদিন সব মিলিয়ে আট ঘণ্টা সিবিআই আধিকারিকরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরে সেকথাই জানালেন মুকুল রায়।রাজ্য় বিজেপির 'সেকেন্ড পার্সন' বলেন,'সব ধরনের তদন্তের মুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত । গতকাল এবং আজ মিলে আমি আট ঘন্টা সিবিআইকে ফেস করেছি। কারণ আমি বলেছি তদন্তকারীরা তদন্ত করতে এসেছেন। সে তো পায়ে হেঁটে আসেনি, সুপ্রিমকোর্টের তত্ত্বাবধানে এসেছে। আমি যেকোনও তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।'

আরও পড়ুন :নারদকাণ্ডে ফের চাপে তৃণমূল, স্পিকারের কাছে মামলার আর্জি সিবিআই-এর

আরও পড়ুন :বঙ্গ-সমাজের সর্বস্তরে ফুটছে পদ্মফুল, দিদির কপালে ভাঁজ ফেলে কোটি ছাড়াল বিজেপি
তবে দিল্লির তদন্তকারীদের সহযোগিতার কথা বললেও বাংলার অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা এই বর্ষীয়ান নেতা। মুকুল বলেন,'পশ্চিমবাংলায় যেটা চলছে,মিথ্যে মামলা দিয়ে মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে ২৯ টা মামলা হয়েছিল। এটা নিয়ে ত্রিশটা মামলা হল।' উল্লেখ্য় কদিন আগেই রেল বোর্ডে সদস্য়পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে মুকুল ঘনিষ্ঠ এক নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই প্রতারণা মামলায় রয়েছে মুকুল রায়ের নাম। ইতিমধ্য়েই সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন মুকুল। 
তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,' আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে । আমি মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি । মহামান্য হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। আইনি লড়াইয়ে ধন্যবাদ দিই বিচারব্যবস্থাকে । সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় দাঁড়িয়ে বিচারের বাণী নীরবে থেমে থাকেনি।' রাজ্য রাজনীতির ২৪ ঘণ্টার অতীত বলছে, বুধবার রাতেই বিজেপির রাজ্য় সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে যান তৃণমূলের বিধায়ক দেবশ্রী রায়। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরের পর থেকেই দেবশ্রীর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে শুরু হয় জল্পনা। মুকুল অবশ্য় এ প্রসঙ্গে বলেন, 'দিলীপদা দলের রাজ্য সভাপতি। দিলীপদার কাছে যেকোনও মানুষ যেতেই পারে। সুতরাং এর মধ্যে অন্য কোনও গল্প খোঁজা ঠিক নয়।' 
সূত্রের খবর,বুধবারই শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা অরবিন্দ মেনন। শোনা যাচ্ছে, দলে ঢুকলেও বিজেপির ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না শোভন -বৈশাখী।  দিলীপের ডাল-ভাত মন্তব্য়ের পর থেকেই বিজিপের রাজ্য সভাপতির ওপর মনক্ষুন্ন হয়েছেন শোভন। গতকাল শোভনের মান ভঞ্জন করতে মেনন তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন বলে খবর। এ বিষয়ে প্রশ্নে করা হলে মুকুল বলেন,দলের বৃদ্ধির জন্য সে দৌড়ঝাঁপ করতেই পারে। এটাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার কোনও কারণ নেই।

আরও পড়ুন :দিলীপের বাড়িতে দেবশ্রী! যোগদান ঘিরে জল্পনা

​​​​​​​আরও পড়ুন :বাগড়া দিল না রাজ্য়, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বস্তিতে মুকুল
,সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য় সভাপতি বদল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মূরলীধর স্ট্রিটে। তবে মুকুল এ বিষয়ে সরাসরি জানিয়ে দেন,'দিলীপবাবুই সভাপতি পদের যোগ্য।  দিলীপবাবুর নেতৃত্বে পঞ্চায়েতে ভালো করেছে দল। দিলীপবাবুর নেতৃত্বেই লোকসভায় রাজ্যে ভালো ফল করেছে বিজেপি। তাই  আমার ব্যক্তিগত মত, ওই জায়গায় দীলিপবাবুই ঠিক। কথায় আছে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে নেই।'