দিল্লির বিজেপির সদর দফতরের পর এবার দিলীপ ঘোষের সল্টলেকের বাড়িতে। তৃণমূলের বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের বিজেপিতে যোগদান কি কেবল সময়ের অপেক্ষা ?না শোভন-বিশাখীর আপত্তিতে ভেস্তে যাবে দেবশ্রীর যোগদান ?

গত ১৪ অগাস্ট তাঁর দেখা মিলেছিল দিল্লি বিজেপির সদর দফতরে। রাজতনৈতিক মহলের গুঞ্জন, শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে সেদিনই যোগ দেওয়ার কথা ছিল রায়দিঘির বিধায়কের। কিন্তু বাঁধ সাধে শোভন-বৈশাখীর আপত্তি। রাজধানীর রাজনীতিতে কান পাতলে শোনা যায়, দেবশ্রীর বিজেপিতে যোগ নিয়ে বেঁকে বসেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। এমনকী দেবশ্রী বিজেপিতে যোগ দিলে তাঁদের পাওয়া যাবে না বলেও হুঙ্কার দেন শোভন। সেযাত্রায় দলের নির্দেশে রিজার্ভ বেঞ্চে রাখা হয় দেবশ্রীকে। রাজ্য় রাজনীতির হাওয়া মোরগ বলছে, এবার বিজেপিতে যোগদানের পালা দেবশ্রীর। বুধবার রাতে সেকারণেই দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ন :কেমন আছেন বুদ্ধদেব, রাজ্যপাল সাক্ষাতে ছবি এল প্রকাশ্যে

আরও পড়ুন : খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে দোষ স্বীকার করল ১৯ জন, সাজা ঘোষণা ৩০ অগাস্ট

সূত্রের খবর, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বিজেপির রাজ্য় সভাপতির সল্টলেকের সিএল ব্লকের সামনে একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায়। গাড়িতে বসেছিলেন দেবশ্রী রায়। নিজে না নেমে কাউকে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে পাঠান তৃণমূলের বিধায়ক। ঘটনাক্রমে সেই সময় বাড়ি ছিলেন না দিলীপ ঘোষ। সহায়কের মাধ্য়মে সেই খবর পেয়েই গাড়ি নিয়ে রওনা দেন তিনি।

পরে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বাড়িতে আসেন দিলীপবাবু। দেবশ্রীর আগমনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, দেবশ্রীর আসার বিষয়ে আগাম খবর ছিল না আমার কাছে। 'আমি তো আপনাদের সঙ্গেই ছিলাম।' যদিও তৃণমূলের রায়দিঘির বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন কিনা তা নিয়ে খোলসা করেননি তিনি। এবিষয়ে 
জিজ্ঞাসা করা হলে 'আমি জানি না' বলে বাড়ি ঢোকেন দিলীপ ঘোষ। 

আরও পড়ুন : উর্দি পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম, বিতর্কে আইপিএস রাজীব মিশ্র

আরও পড়ুন :'আপনি ৩৭০-এর পক্ষে না বিপক্ষে', 'দিদিকে' প্রশ্ন দিলীপের

রাজ্য় রাজনৈতিক মহলের ধারণা,দেবশ্রীকে এখনই দলে ঢোকানোর দায়িত্ব নিতে চাইছেন না কোনও রাজ্য় নেতৃত্ব। মূলত,দেবশ্রীকে দলে ঢুকিয়ে শোভনকে চটাতে চাইছেন না কেউ। গত ১৪ অগাস্ট দিল্লিতেও সবার মুখে একই হাবভাব চোখে পড়ে। দেবশ্রী কেন বিজেপির দফতরে প্রশ্ন করায়,তিনি ডাকেননি বলে চলে চলে যান মুকুল রায়। দেবশ্রীকে কে ডেকেছে তা নিয়েও প্রশ্ন করেন এক সময়ের মমতার ছায়াসঙ্গী। তবে রাজ্য় বিজেপির একাংশ বলছে,দেবশ্রীকে কোনও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মাধ্য়মে দলে জয়েন করাতে চাইছে বিজেপি। কৈলাস বিজয়বর্গীয়র মতো কোনও নেতা এই কাজ করলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। শোভন-বৈশাখীকে বলা যাবে, দেবশ্রীর দলে যোগদান তাঁদের হাতে হয়নি। এটা পুরোপুরি সেন্ট্রাল কমিটির সিদ্ধান্ত। অন্য়দিকে, দলের অনুশাসন নিয়েও শোভনকে বার্তা দেওয়া যাবে। কোনও কারও সঙ্গে ব্য়ক্তিগত সম্পর্কের নিরিখে যে বিজেপি চলে না,তা বুঝিয়ে দেওয়া যাবে তৃণমূলের প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতাকে।