Murshidabad Marriage Shocker: মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় যা হল তা সিনেমাতেও অনেক সময় হয় না। স্বামীর সামনেই নিজের প্রেমিকের গলায় মালা দিলেন এক গৃহবধূ আর সেই বিয়ের সাক্ষী রইলেন খোদ প্রথম স্বামীই।
Murshidabad Marriage Shocker:কোথায় লাগে সিনেমা! মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় যা হল তা সিনেমাতেও অনেক সময় হয় না। বড়ঞার পাঁচথুপী পঞ্চায়েতের পুলিয়া কালীতলা গ্রামে এমন এক বিয়ের আসর বসল যা দেখে অনেকের কপালে হাতে। স্বামীর সামনেই নিজের প্রেমিকের গলায় মালা দিলেন এক গৃহবধূ আর সেই বিয়ের সাক্ষী রইলেন খোদ প্রথম স্বামীই। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ছয় বছর আগে ওই গৃহবধূর বিয়ে হয় গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের পাঁচ বছরের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। শুরুতে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পারিবারিক অশান্তি, মতানৈক্য ও দূরত্ব বাড়তে থাকে বলে দাবি দুই পক্ষেরই। সেই সময়েই গৃহবধূর সঙ্গে অন্য এক যুবকের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়।
কীভাবে গৃহবধূর প্রেম বিয়েতে পরিণত হল
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পর্কের কথা গ্রামে কানাঘুষো চলছিল। নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনা। গৃহবধূ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান না এবং প্রেমিকের সঙ্গেই ভবিষ্যৎ গড়তে চান। অবাক করার বিষয়, সমস্ত কিছু জেনেও প্রথম স্বামী কোনও বাধা দেননি। বরং সকলের সামনে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গেই তাঁর বিয়েতে সম্মতি জানান। এরপর গ্রামের এক মন্দিরে প্রতীকী ভাবে মালাবদল হয়। স্বামীর সামনেই প্রেমিকের গলায় মালা দেন ওই গৃহবধূ। সেই মুহূর্তের দৃশ্য মোবাইলে তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন। এরপরই ভাইরাল হয়ে যায় এই বিয়ের ভিডিও।
উঠছে প্রশ্ন
তবে এই ঘটনায় শুধু চাঞ্চল্যই নয়, উঠছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। আইনের চোখে এই বিয়ের বৈধতা কী, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পাঁচ বছরের শিশুটির ভবিষ্যৎ কী হবে? শিশুটি কার কাছে থাকবে, তার দায়িত্ব কে নেবে, শিক্ষাদীক্ষা ও মানসিক স্থিতি কীভাবে নিশ্চিত হবে এই প্রশ্নগুলির কোনও স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। সচেতন মহলের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পর্ক ও সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত হতে পারে, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে সন্তানের উপর। সমাজের বদলে যাওয়া সম্পর্কের সমীকরণে শিশুর অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


