উত্তরপ্রদেশে এক নববধূ বিয়ের মাত্র ২০ মিনিট পরেই ডিভোর্স চেয়ে বসেন। শ্বশুরবাড়ি, নিজের পরিবার এবং পঞ্চায়েতের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তার সিদ্ধান্তের কোনও কারণ জানাননি। 

একটি অদ্ভুত ঘটনার কারণে খবরে উত্তরপ্রদেশ। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি পৌঁছেই এক নববধূ বিয়ে ভেঙে দেন। শ্বশুরবাড়ির লোক, গ্রামবাসী এমনকি নিজের বাড়ির লোক এবং পঞ্চায়েতের অনুরোধেও ওই তরুণী তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। অবশেষে, কয়েক ঘণ্টা আগে হওয়া বিয়েটি পঞ্চায়েত বাতিল বলে ঘোষণা করে। কিন্তু নববধূ কেন বিয়ে ভাঙলেন, তার উত্তর কারও কাছেই ছিল না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিয়ের ২০ মিনিটের মধ্যেই বিবাহবিচ্ছেদ

উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়াতে, কয়েক মাস ধরে আলোচনা এবং দেখাশোনার পর, ভালুয়ানির এক জেনারেল স্টোরের মালিক বিশাল মাধেসিয়া সালেমপুরের পুজাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। ২৫ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। সেদিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছায়। রাতে কনের বাড়িতেই তাদের বিয়ে হয়। এরপর কনে বরের পরিবারের সঙ্গে তার নতুন বাড়িতে ফিরে আসে। বরের বাড়িতে পৌঁছে বাসর ঘরে ঢোকার ২০ মিনিট পরেই নববধূ বেরিয়ে আসেন এবং জানান যে তিনি এই বিয়ে থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি বারবার বলতে থাকেন, 'আমার বাবা-মাকে ডাকুন। আমি এখানে থাকব না।'

মামলা গড়াল পঞ্চায়েত পর্যন্ত

বরের পরিবার এবং স্থানীয়রা বারবার জিজ্ঞাসা করা সত্ত্বেও, তরুণী কারণ জানাতে রাজি হননি। বর জানান, বাগদানের পর তারা অনেকবার কথা বলেছেন, কিন্তু সে কখনও বিয়ের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি। তরুণীর জেদের কারণে বরের বাড়ির লোক তার বাড়িতে খবর দেয়। এরপর কনের বাড়ির লোক এসে পৌঁছায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, তারাও তরুণীকে কারণ জিজ্ঞাসা করলেও তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

এরপর গ্রামবাসী ও পরিবারের অনুরোধে পঞ্চায়েত ডাকা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে পঞ্চায়েত চলার পরেও তরুণী তার সিদ্ধান্তের কারণ জানাতে রাজি হননি। অবশেষে পঞ্চায়েত তাদের বিবাহবিচ্ছেদ অনুমোদন করে। পঞ্চায়েত জানায়, দুজনেই আবার বিয়ে করতে পারবেন। বর অভিযোগ করেন, নববধূর এই আচরণে তিনি ও তার পরিবার অপমানিত হয়েছেন। পঞ্চায়েত আরও জানায়, বিয়ের প্রস্তুতির জন্য খরচ হওয়া টাকা উভয় পক্ষকে একে অপরকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভাইরাল ভিডিও

এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ দেখেছেন। কেউ কেউ এটিকে 'ব্লিঙ্কিট' (Blinkit বিয়ে) বলে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, 'নববধূ ও তার পরিবারকে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং শাস্তি দেওয়া উচিত। মানুষ বিয়েকে একটা মজা এবং পালানোর উপায় বানিয়ে ফেলেছে।' আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, 'বিয়ের কথা বলার সময় এই সাহস কোথায় ছিল?' অন্য একজন মজা করে বলেছেন, '২০ মিনিটের ট্রায়াল পিরিয়ড, সে আনসাবস্ক্রাইব ক্লিক করেছে।'

Scroll to load tweet…