কয়েকদিন আগেই নদিয়ায় এক থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক হিন্দু কিশোরীর প্রাণ বাঁচাতে রোজা ভেঙে এগিয়ে এসেছিলেন এক মুসলিম যুবক। আর এবার কালনায় বিরল গ্রুপের রক্ত দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা এক হিন্দু মহিলার প্রাণ বাঁচালেন আর এক মুসলিম যুবক। ইদের আগে এভাবেই যেন অপরিচিত এক বোনের প্রাণ বাঁচালেন দাদা। তবে রক্ত দেওয়ার আগে একটাই শর্ত দিয়েছিলেন কালনার সমুদ্রগড়ের বাসিন্দা হান্নান শেখ। তাঁর সাফ কথা ছিল, রক্ত দেওয়ার বিনিময়ে কোনও অর্থ তিনি নেবেন না। 

পূর্ব বর্ধমানের কালনার জালাহাটি গ্রামের বাসিন্দা বীথিকা সরকার অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন গত চারদিন ধরে। তাঁর শরীরে রক্ত সংকট দেখা দেয়। বীথিকাদেবীর প্রাণ বাঁচাতে এবি গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে ওই গ্রুপের রক্ত মজুত ছিল না। ফলে চরম সংকটে পড়ে ওই গৃহবধূর পরিবার। রক্তের খোঁজে দিশেহারা অবস্থা হয় তাঁদের। চিকিৎসকরাও জানিয়ে দেন, রক্ত না পেলে বীথিকাদেবীর প্রাণ সংকট তৈরি হতে পারে। 

শেষ পর্যন্ত সোমবার বীথিকাদেবীর এক আত্মীয়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় বীথিকা দেবীর জন্য রক্তের প্রয়োজনের কথা জানান। তা চোখে পড়ে বর্ধমানের ধাত্রীগ্রামের কয়েকজন যুবকের। তাঁরাই খোঁজ নিয়ে কালনার সমু্দ্রগড়ের বাসিন্দা হান্নান শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর রক্তের গ্রুপ যেহেতু এবি নেগেটিভ, তাই বীথিকাদেবীর প্রাণ বাঁচানোর জন্য হান্নান শেখকেই অনুরোধ করেন ওই যুবকরা। সঙ্গে সঙ্গে রাজিও হয়ে যান হান্নান। 

বুধবার কালনা মহকুমা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে এসে রক্ত দিয়ে যান হান্নান শেখ। স্বভাবতই তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ বীথিকাদেবীর আত্মীয়রা। তাঁরাও শিকার করছেন, ওই ব্যক্তি রক্ত দিতে রাজি না হলে হান্নান শেখ রক্ত না দিলে বীথিকাদেবীর প্রাণ বাঁচানোই মুশকিল হত। মিন্টু সরকার নামে ওই গৃহবধূর এক আত্মীয় বলেন, "আমাদের খুবই আনন্দ হচ্ছে, গর্বিতও মনে হচ্ছে। আজ বার বার মনে হচ্ছে, মোরা একই বৃন্তে দু'টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।"

আর যিনি রক্ত দিয়ে বীথিকাদেবীর প্রাণ বাঁচালেন, সেই হান্নান শেখ বলছেন, "আমার যা কর্তব্য আমি করেছি। আর কিছু নয়। তবে রক্ত দিতে আসার আগে বার বার বলেছিলাম, রক্ত দেওয়ার বিনিময়ে আমি কিন্তু কোনও পয়সা নেব না।"