নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি-র এক শাখা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করল এনআইএ। ধৃতের কাছ থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে।
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি-র এক শাখা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করল এনআইএ। ধৃতের কাছ থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে।
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর একটি শাখা সংগঠনের হয়ে নাশকতার ছক কষার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। রবিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এনআইএ জানিয়েছে, গ্রেফতারের সময় ওই অভিযুক্তের কাছ থেকে মোবাইল ফোন এবং মেমরি কার্ডের মতো বেশ কিছু ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর একই ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেরলের মোট ১৬টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে তাদের ধরা হয়েছিল। রবিবারের গ্রেফতারি তারই ধারাবাহিকতা।
তারও আগে, গত ২৫ জুন অসমের গুয়াহাটিতে এনআইএ-র বিশেষ আদালতে ১১ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করে এনআইএ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ২০২৩ এবং ইউএপিএ, ১৯৬৭-এর বিভিন্ন ধারায় ওই চার্জশিট দেওয়া হয়।
এনআইএ-র তদন্তে উঠে এসেছে, জেএমবি-র শাখা সংগঠন 'ইমাম মাহমুদের কাফিলা' (আইএমকে)-র নাশকতার ছকের সঙ্গে এই অভিযুক্তরা সরাসরি জড়িত। পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে নিজেদের চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এবং জঙ্গি নেটওয়ার্ক বড় করাই ছিল এদের মূল লক্ষ্য। এনআইএ-র প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মগজধোলাইয়ের মাধ্যমে অল্পবয়সিদের দলে টানা এবং চরমপন্থী চিন্তাভাবনার প্রচার চালানোর কাজ করত এরা।
তদন্তে আরও জানা গেছে, জেএমবি-র এক শীর্ষ নেতা ইমাম মাহমুদ হাবিবুল্লাহ এই 'ইমাম মাহমুদের কাফিলা' (আইএমকে) তৈরি করেছিল। ভারতে নিষিদ্ধ এই জঙ্গি সংগঠনের গোপন অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
অভিযুক্তরা গোপনে বৈঠক করা, ধর্মীয় উস্কানিমূলক কর্মসূচি চালানো এবং চরমপন্থী বইপত্র বিলি করার মাধ্যমে আইএমকে বা জেএমবি-র কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ছক কষেছিল। এমনকি, ভারত-বিরোধী প্রচার এবং মগজধোলাইয়ের জন্য টেলিগ্রামের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকেও তারা হাতিয়ার করেছিল বলে অভিযোগ।
ভারতে সংগঠনের নেটওয়ার্ক মজবুত করা এবং আইএমকে বা জেএমবি-র শীর্ষ নেতাদের প্রতি আনুগত্য বাড়ানোর চেষ্টাও চালাত তারা। এই ঘটনার আরও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে এনআইএ।


