একহয়ে জোট গড়ুন, আপনারা শিক্ষা সংস্কৃতি, সভ্যতায় অনেক এগিয়ে ৷ বহিরাগত ফেট্টিবাজরা এসে বিভাজনের কথা বললে ভয় পাবেন না ৷ আমরা থাকাকালীন কারও ক্ষমতা নেই আপনাদের ওপরে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবে ৷ সোমবার খড়্গপুর শহরের প্রশাসনিক সভা থেকেই উপস্থিত খড়্গপুরবাসীদের উদ্দেশ্যে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ৷ 

খড়্গপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়লাভের পরে ধন্যবাদ জ্ঞাপক সভার আয়োজন করা হয়েছিল খড়্গপুর শহরের রাবণপোড়া মাঠে ৷ সেই মহুর্তে পার্লামেন্টে নাগরিক বিল পেশ করছেন স্বারাষ্ট্র মন্ত্রী ৷ তখন সেই বিষয়ের প্রতিবাদ করে খড়্গপুরের প্রশাসনিক সভাতে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ এদিন তিনি বলেন, শিক্ষায় , সভ্যতায় আপনারা অনেক এগিয়ে। ভয় পাবেন না ভালো করে সুন্দর করে কাজ করুন।ফেট্টি পরে যারা এসে বলবে দেশটাকে ভাগ করে দাও, তাদের বলে দিন বাংলার সংস্কৃতি ফেট্টিবাজদের জায়গা নয়। এন আর সি এবং সিএবি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।আমরা থাকাকালীন কারও কোনো ক্ষমতা নেই আপনাদের উপরে কেউ জোর করে কিছু চাপিয়ে দেবে। 

শুধু অনুরোধ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ হিসেবে সময় দশ বছর অন্তর যখন নামটা লেখাতে আসবে লিখে দেবেন। রেশন কার্ডের একটা কপি দিয়ে দেবেন। আমার দুঃখ লাগে যখন দেখি আমার বাংলাতেও কয়েকজন ফেট্টিবাজদের কথায় ৩০ জন মানুষ চিন্তায় আত্মহত্যা করেছে, নয়তো কোনওভাবে মারা গেছেন। আমার দুঃখ হয় সেই পরিবারগুলোর জন্য। আমরা সবাই আছি,আপনাদের মাথার ওপর ভয় পাচ্ছেন কেন। কেউ কেউ আছেন কাজ করেন না শুধু ভাষণ দেন। রেশন দেন না। আমরা তাদের পক্ষে নই। মানুষ যাতে ভালো থাকে আমরা তার পক্ষে। আমাদের সবাইকে এক থাকতে হবে। বাইরের থেকে আমদানি করা কিছু লোক এসে আপনার মাথার সামনে হিন্দু-মুসলমান শিখ খ্রিস্টান সাদা-কালোর গল্প শোনাবে , আর সারাক্ষণ ডুগডুগি বাজাবে। ওসব করতে দেবেন না। ডুগডুগি বাজাতে হলে নিজেদের বাড়িতে বসে বাজাতে বলুন। অন্য কাউকে আপনার মাথার উপর খবরদারি করতে দেবেন না ৷

খড়্গপুরের বাসিন্দাদের বর্তমান রেলের অবস্থা বুঝিয়ে তিনি বলেন, খড়গপুর শহরের ৯০ শতাংশ জমি রেলের। আজ মনে হচ্ছে, আপনাদের ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে। আমি জানি না সামনের দিনে কী হবে। এখন তো রেলটাকেও বিক্রি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমন কোনও দিন এলে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আপনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে থাকব। এখানকার উপস্থিত সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষকে বলব আমরা সবাই এক। আসুন জোট বাঁধি, একটা লোককেও দেশ থেকে তাড়ানো চলবে না। নো এনআরসি, কোনও বিভাজন হবে না। 

যার যতই রাজনৈতিক স্লোগান থাকুক, মনে রাখবেন দেশের থেকে বড় কিছু নয়।  সিটিজেন্স অ্যামেন্ডমেন্ট বিল বা সিএবি বলুন বা এনআরসি বলুন দুটোই কয়েনের এপিঠ ওপিঠ। আমরা সবাই নাগরিক, সবাই ভোট দি, প্রত্যেকের কোনও না কোনও কাগজ রয়েছে। তাহলে আবার নাগরিকত্বের প্রশ্ন কেন।আর যদি আপনার কোনও কিছু নতুন করে এসে থাকে তাহলে ডিপ সিটিজেনশিপ দিতে পারেন। বাইরের দেশে কেউ ৫বছরের বেশি থাকলে ডিপ সিটিজেনশিপ, নয়তো সবুজ কার্ড দেওয়া হয়। এখানে বলছে ৭০ বছরের বেশি থাকার পরেও নাকি নাগরিক নয়। সেটা বলার জন্য আপনারা কারা? অসমে এইসব করতে গিয়ে ১৪ লক্ষের বেশি হিন্দুকেও বাদ দিয়ে দিয়েছে ওরা। বাদ গিয়েছে অন্যান্য সমস্ত সম্প্রদায়ও। প্রথমে বরং খাদ্য বস্ত্র ঘর দিন। মানুষকে বিভাজন করবেন না।