মনুয়া কাণ্ডের ছায়া ফিরল উত্তর চব্বিশ পরগণার বাদুড়িয়ায়। সুপারি কিলার লাগিয়ে মাছ ব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগে মৃতের স্ত্রী এবং তার প্রেমিকাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, গত রবিবার সকালে অজয় মণ্ডল নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয় বাজিতপুর কালীতলা এলাকায়। মৃতের সারা শরীরে কোপানোর চিহ্ন ছিল দেহ উদ্ধারের আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যেই এই খুনের কিনারা করে ফেলল বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, আশি হাজার টাকা দিয়ে ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে অজয়কে খুন করিয়েছে তার স্ত্রী টুম্পা এবং প্রেমিক মিঠুন মণ্ডল।

অজয়ের দেহ উদ্ধারের পরেই তাঁর ভাই থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, প্রতিবেশী যুবক মিঠুন মণ্ডলের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল টুম্পার। দু' জনকে একসঙ্গে দেখে সেই সম্পর্কের কথা জেনে ফেলেছিলেন অজয়। এই নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই গণ্ডগোল এবং বচসাও হত। 

অভিযোগ, এই টানাপোড়েনে ইতি টানতে অজয়কে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে টুম্পা এবং তার প্রেমিক মিঠুন। দু' জনে মিলে ঘটনাস্থলে রেইকিও করেছিল। এর পরে আশি হাজার টাকা দিয়ে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করা হয়। ঘনার দিন ভোর বেলা অজয় মাছ কিনতে বেরোলে ফোনে তা প্রেমিক এবং দুষ্কৃতীদের জানিয়ে দেয় অভিযুক্ত টুম্পা। এর পরে ঘটনাস্থলে অজয় পৌঁছতেই মোটরসাইকেল চড়ে এসে দুষ্কৃতীরা তাঁকে কোপাতে শুরু করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। 

 

 

জেরায় টুম্পা ঘন ঘন বয়ান বদলানোয় পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। একসময়ে টুম্পা জেরায় ভেঙে পড়ে গোটা ঘটনা স্বীকার করে নেয়। এর পরে মঙ্গলবার ভোরে টুম্পা এবং তার প্রেমিক মিঠুনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বৌমা এবং তার প্রেমিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃত অজয়ের বাবা গোবিন্দ মণ্ডল। অজয় এবং টুম্পার একটি সাত বছরের ছেলেও রয়েছে। নাতিকে তাঁরাই মানুষ করবেন বলে জানান অজয়ের বাবা-মা।

এ দিন টুম্পা এবং মিঠুনকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। 

২০১৭ সালে উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসতে একই কায়দায় প্রেমিকের সঙ্গে মিলে নিজের স্বামীকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয় মনুয়া নামে এক তরুণী। সেক্ষেত্রেও প্রেমিক অজিতের সঙ্গে মনুয়াকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।