থানার থেকে দূরত্ব মেরেকেটে দেড় কিলোমিটার।  কিন্তু সেইটুকু পথ পেরিয়ে এসে পৌঁছতে পারল না পুলিশ। ফলে বিনা বাধায় স্টেশনের লোকো শেডে দাঁড়িয়ে থাকা একের পর এক ট্রেনের কামরায় আগুন লাগিয়ে দিল উন্মত্ত জনতা। পুড়ে ছাই হয়ে গেল পাঁচটি ট্রেনের একাধিক বগি। শনিবার বিকেলে এমনই তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল মুর্শিদাবাদের কৃষ্ণপুর স্টেশন। তছনছ করা হল স্টেশনের সিগন্যালিং রুম- সহ রেলের সম্পত্তিও। 

শুধু কৃষ্ণপুর নয়, রাতের দিকে বেলডাঙার কাছে সারগাছি স্টেশনেও আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। যার জেরে গোটা স্টেশনটিই ভষ্মীভূত হয়ে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি লালগোলা, বেলডাঙা, আজিমগঞ্জ- সহ জেলার একাধিক স্টেশনে দিনভর তাণ্ডব চলে। সুতি, সামশেরগঞ্জ- সহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও পুলিশের গাড়ি ভাঙা হয়েছে, কোথাও আবার যাত্রীদের নামিয়ে বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইন ভাঙা, সম্পত্তি নষ্টের এই উন্মত্ত তাণ্ডব চলাকালীন কার্যত দর্শকের ভূমিকা পালন করল পুলিশ, প্রশাসন। প্রশ্নের মুখে রেল পুলিশের ভূমিকাও। 

শুক্রবারই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা স্টেশনে হামলা চালিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। এ দিন সকাল থেকে ফের বেলডাঙা স্টেশনে ভাঙচুর চলে। রেলের সম্পত্তি নষ্টের পাশাপাশি আগুন ধরানো হয় সিগন্যালিং রুমে। 

আরও পড়ুন- আগুনে ভষ্মীভূত চারটি ট্রেন, প্রতিবাদের নামে বিনা বাধায় তাণ্ডব মুর্শিদাবাদে, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন- প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব বরদাস্ত নয়, কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

এই তাণ্ডবের রেশই ছড়িয়ে পড়ে লালগোলা স্টেশনে। সেখানেও একইভাবে স্টেশনের বাইরে আগুন ধরানো হয়। লালগোলা স্টেশনের পরে উন্মত্ত জনতা পৌঁছয় দু' কিলোমিটার দূরের কৃষ্ণপুর স্টেশনে। লোকোশেড থাকায় ওই স্টেশনেই শিয়ালদহ- লালগোলা শাখায় যাতায়াতকারী প্যাসেঞ্জার এবং এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। রক্ষণাবেক্ষণের কাজও চলে। এ দিন দুষ্কৃতীরা হামলা চালানোর সময় স্টেশনে মোট পাঁচটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস- সহ পর পর পাঁচটি ট্রেনে আগুন ধরায় উন্মত্ত জনতা। কৃষ্ণপুর স্টেশন থেকে লালগোলা থানার দূরত্ব খুব বেশি হলে দেড় কিলোমিটার। অভিযোগ, পরের পর ট্রেনে আগুন ধরিয়ে যখন স্টেশনে তাণ্ডব চলছে, তখন সেখানে পুলিশের দেখা মেলেনি। বিনা বাধায় পরের পর ট্রেন জ্বালিয়ে সিগন্যাল রুম-এ ভাঙচুর চালায় জনতা। আগুনে ট্রেনগুলির একাধিক কামরা ভষ্মীভূত হয়ে যায়। হামলাকারীরা স্টেশন চত্বর ছাড়ার পর সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন দমকল কর্মীরা। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। একইভাবে আজিমগঞ্জ স্টেশনেও অবরোধ করে ভাঙচুর চালায় জনতা। 

শুধু রেল স্টেশন নয়,  শনিবার সারাদিনই মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে রীতিমতো তাণ্ডব চলেছে। সামশেরগঞ্জে বিক্ষোভ চলাকালীন থানায় আক্রমণ চালায় একদল জনতা, ভেঙে দেওয়া হয় থানার গেট এবং পুলিশের গাড়ি। সুতি থানার ঔরঙ্গাবাদে যাত্রীদের নামিয়ে একটি বাসে আগুন ধরানো হয়। পণ্ডিতপুর এলাকাতেও বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তিতে আগুন ধরানোর অভিযোগ উঠেছে 
বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। লালগোলা বাজারে পূর্ত দফতরের অফিসে  আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতকিছুর পরেও অবশ্য কোনও কড়া পদক্ষেপ নয়, বরং মাইক হাতে পুলিশকে এলাকার মানুষকে সংযত থাকার আবেদন করতে দেখা গিয়েছে।