ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এফআইআর করল পুলিশ। ডায়মন্ড হারবারে বাইক বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ আসে কমিশনের কাছে। তারপরেই পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তারপরেই বাইক বাহিনীর বিরুদ্ধে ডায়মন্ডহারবার থানায় এফআইআর দায়ের করল পুলিশ।

ডায়মন্ড হারবারে ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এফআইআর করল পুলিশ। ডায়মন্ড হারবারে বাইক বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ আসে কমিশনের কাছে। তারপরেই পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তারপরেই বাইক বাহিনীর বিরুদ্ধে ডায়মন্ডহারবার থানায় এফআইআর দায়ের করল পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের একটি ভিডিও হাতে এসেছে কমিশনের। তাতে দেখা যাচ্ছে, পাড়ার মধ্যে ঢুকে কার্যত দাপিয়ে বেরাচ্ছে বাইক বাহিনী। প্রত্যেকটি বাইকে দু’জন বা তিনজন করে ছিল, কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। তারা চিৎকার করে করে বলছে, ‘ভয়ঙ্কর খেলব ৪ তারিখ, মনে থাকে যেন’। আগামী ২৯ তারিখ দ্বিতীয় দফার ভোট। নির্বাচন রয়েছে ডায়মন্ড হারবারেও। সেই ভোটের আগে পাড়ায় ঢুকে এভাবে বাইক বাহিনীর দাপট ভাল চোখে নেয়নি কমিশন। ভিডিও প্রকাশ করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে।

গত শুক্রবারই ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-সহ পাঁচ পুলিশ আধিকারিককে ‘আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ’ দর্শিয়ে সাসপেন্ড করে কমিশন। তার পর সেখানে নতুন পুলিশ আধিকারিকদেরও নিয়ে আসা হয়। আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদারকে ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দায়িত্ব পেয়েছেন বিজয় যাদব। ফলতা পুলিশ স্টেশনের আইসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্সপেক্টর পার্থ সারথী ঘোষকে। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ স্টেশনের আইসি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্সপেক্টর প্রসেনজিৎ কর। তিনি এর আগে সাইবার ক্রাইম উইংয়ে ছিলেন। উস্তি থানার ওসি পদে ডায়মন্ড হারবারের ডিআইবি রাহুল কুমারকে আনা হয়েছে। অবিলম্বে এই আধিকারিকের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সেখানে দুষ্কৃতীদের হুমকির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কড়া হাতে দমন করার নির্দেশ দেয় কমিশন। তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ করা হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।

বাইক নিয়ে নজিরবিহীন বিধিনিষেধ জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। তবে বাইক নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশিকা জারি করেছিল, তাতে কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। বাইক নিয়ে বাড়তি কড়াকড়ি খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দেয়, ২দিন আগে থেকে নয়, ভোটের দিনের ১২ ঘণ্টা আগে 'কড়াকড়ি' করা যেতে পারে। বাইকে নয়, ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে শুধু সওয়ারিতে নিষেধ। অর্থাৎ বাইকের পিছনে সওয়ার হওয়ায় আর কোনও বাধা রইল না। তবে নির্বাচনের ১২ ঘণ্টা আগে থেকে ফের লাগু হবে এই বিধিনিষেধ। অর্থাৎ ২৯ তারিখ নির্বাচন শুরু হওয়ার ১২ ঘণ্টা আগে থেকে এক বাইকে ২জন সওয়ার হতে পারবেন না। তবে মেডিক্যাল এমার্জেন্সি, পারিবারিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। সেক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণ দেখিয়ে বাইকে একাধিক ব্যক্তি সওয়ার হতে পারেন। ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে অবশ্য স্কুলপড়ুয়াদের বাইকে চড়ার ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে।