আশঙ্কা ছিলই। শেষপর্যন্ত ঝড়-জলের রাতেই কিনা প্রসব করতে শুরু করল আদরের পোষ্যটি! লকডাউনের সময়ে যদি পুলিশের অনুমতি না মিলত, তাহলে যে কী হত! ভাবলেই এখনও শিউরে উঠছেন হুগলির ব্যান্ডেলের হাজারি পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: লকডাউনে বন্ধ ট্রেন চলাচল, স্টেশনে ভবঘুরেদের খাওয়ানোর অনুমতি দিল না রেল

তখন সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। মাস দুয়েক আগে সন্তানসম্ভবা হয় হাজারি বাড়ির পোষ্য সারমেয় ডেইজি। খবরটি জানার পর থেকে আনন্দেই ছিলেন পরিবারের লোকেরা। কিন্তু তাল কাটল লকডাউনে। যদি ডেইজির প্রসব শুরু হয়! সেই চিন্তাতেই কেটে যায় প্রথম পর্যায়ে লকডাউনের একুশ দিন। দ্বিতীয় পর্বের লকডাউন ঘোষণা হতেই আশঙ্কা আরও বাড়ল। 

সোমবার ঝড়-জলের রাতে প্রসব করতে শুরু করে ডেইজি। টেলিফোনে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেন হাজারি বাড়ির লোকেরা। একে একে সাতটি শাবকের জন্ম দিয়ে হাপিয়ে পড়ে সারমেয়টি। স্বাভাবিকভাবে প্রসব করতে না পেরে নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে ক্রমশই। পেটে তখনও আর বেশ কয়েকটি শাবক। বাড়ির লোকেরা বুঝে যান, অবস্থা সংকটজনক। যত দ্রুত সম্ভব প্রসব করাতে হবে,তা না হলে ডেইজিকে বাঁচানো যাবে না।যে পশু চিকিৎসকের সঙ্গে হাজারি বাড়ির লোকেরা ফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন, তিনি থাকেন ব্যারাকপুরে। তিনি বলেন, ‘সিজার করতে হবে। দেরি করা যাবে না।’কিন্তু লকডাউনের মাঝে হুগলি থেকে ব্যারাকপুরে যাবেন কী করে? নিরুপায় হয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হন পরিবারের লোকেরা। অনুমতিও মিলে যায় সহজেই।

আরও পড়ুন: 'কেউ যেন অভুক্ত না থাকে', করোনা ত্রাণে দু'মাসের বেতন দান অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর

আরও পড়ুন: চিকিৎসক সন্তানদের নিয়ে 'গর্বিত', দুঃশ্চিন্তাও বাড়ছে রায়গঞ্জের দম্পতির

হাজারি বাড়ির সদস্য সৌষ্ঠব হাজারি বলেন, ‘গাড়ির মধ্যে ডেইজির অবস্থা দেখে প্রতিবারই আমাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ জন্য আমরা পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ। ব্যারাকপুরে চিকিৎসক ডেইজির সিজার করেন। তবে পেটে থাকা তিনটি শাবককে বাঁচানো যায়নি।' তবে ডেইজি-এর আর কোনও বিপদ নেই। কিন্তু নিয়মিত শুশ্রূষা প্রয়োজন তার। বাড়ি থাকা সদ্যোজাত শাবকদের দুধ না খাওয়ালে বাঁচানো যাবে না। তাই সিজারের পর বাড়িতে এনে স্যালাইন চালানো হয় ডেইজির।