নৈহাটিতে বাজি নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। ফের বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। বিস্ফোরণের অভিঘাত পৌঁছল গঙ্গার অন্যপাড়ে চুঁচুড়াতেও! স্থানীয় বাসিন্দাদের বিক্ষোভের মুখে পড়ল পুলিশ, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হল পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়িতেও।

সম্প্রতি নৈহাটির মামুদপুরের দেবকের একটি বাড়ি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাণ হারান পাঁচজন।  ওই বাজি কারখানা থেকে প্রচুর পরিমাণ বাজি উদ্ধার করে নৈহাটি থানার পুলিশ।  বৃহস্পতিবার দুপুরে যখন নৈহাটির রামঘাট এলাকার গঙ্গা পাড়ে বাজি নিষ্ক্রিয় করছিল সিআইডি, তখন প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশেপাশে বেশ কয়েকটি বাড়ির কাচের জানলা, দরজা ভেঙে যায়। এমনকী, গঙ্গার ওপারে চুঁচুড়ায়ও বেশ কয়েকটি বাড়ির ক্ষতি হয়। আতঙ্কে উদভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি করতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। শুরু হয়ে যায় অবরোধ। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর নিজে চুঁচুড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় যান, আগুন নেভানোর জন্য খবর দেওয়া হয় দমকলে। কিন্তু ততক্ষণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরম আকার নিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, জনবহুল এলাকা কেন অপরিকল্পিতভাবে বোমা ও বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করছিল পুলিশ? পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকর্মীদের।

উল্লেখ্য, নৈহাটিতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং দাবি করেছিলেন, বাজি নয়, ওই কারখানায় বানানো হচ্ছিল শক্তিশালী বোমা।  দাবি উঠেছিল এনআইএ তদন্তেরও। সেই ঘটনার রেশ কাটতে কাটতে না বোমা নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে ফের বিস্ফোরণ ঘটল নৈহাটিতেই। কেঁপে উঠল চুঁচুড়া।