Pratikur Rahaman CPM: একটি বিষয় পরিষ্কার যে, প্রতিকুর প্রকাশ্যে অনেককিছু খোলসা করে দিলেন। সিপিএম-এর অন্দরে সেলিমের 'একনায়কতন্ত্র'-কে চ্যালেঞ্জ করে এই তরুণ নেতা বুঝিয়ে দিলেন, প্রশ্ন আরও উঠবে। সময় সব উত্তর দিয়ে দেবে।
Pratikur Rahaman CPM: সিপিএম-এর অন্দরে এবার 'একনায়কতন্ত্র'-এর অভিযোগ। কার্যত, পার্টির অন্দরে ভয়ের পরিবেশ! এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন বিদ্রোহী প্রতিকুর রহমান। রীতিমতো বিস্ফোরক অভিযোগ (pratikur rahaman cpm)।
ইতিমধ্যেই রাজ্য-রাজনীতিতে এই মুহূর্তে হট টপিক প্রতিকুর রহমান (cpim west bengal)। সেই প্রতিকুর রহমানই এবার সরাসরি নিশানা করেছেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে। সেইসঙ্গে, তাঁর অভিযোগ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও। যাদেরকে সম্পাদকের ‘পেয়ারের লোক' বলে অভিহিত করেছেন প্রতিকুর। একাধিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিকুর রহমান জানিয়েছেন, “আমি লবিবাজির শিকার হয়েছি। দলের অভ্যন্তরে একাধিক ইস্যুতে প্রশ্ন তোলার অপরাধে আমাকে কোণঠাসা করা হয়েছে। জেলা সম্মেলনে অনেক নেতার শেখানো বুলি আওড়াতে পারিনি বলে আমাকে গোটা ডায়মন্ডহারবার লোকসভা এলাকায় আর ঢুকতে দেওয়া হয়নি।"
সেলিমের 'একনায়কতন্ত্র'-কে চ্যালেঞ্জ তরুণ নেতার!
তরুণ এই নেতার কথায়, "দলের মধ্যে কিছু ব্যক্তি ও কিছু নেতৃত্ব আছেন, যারা দল এবং মতাদর্শের উর্ধে উঠে নিজের ব্যক্তি ইমেজকে প্রতিষ্ঠা করতে চান। আমার জন্য নিয়ম এক, আরেকজনের জন্য তাহলে নিয়ম আলাদা হবে কেন? ছাত্র ফ্রন্ট ছাড়ার পর, আমাকে আর কোনও সংগঠনই দেওয়া হয়নি। আমাকে বলা হল, ক্ষেতমজুর করতে। আমি বললাম ঠিকাছে। কিন্তু কাজ করার জায়গাই তো দেওয়া হচ্ছে না। দলের রাজ্য সম্পাদক সহ কিছু ‘পেয়ারের লোক' আছে, কিছু ‘খাস লোক' আছে, যারা তাঁকে আবদ্ধ করে থাকেন। ওনার কথাই তাদের কথা হয়। ওনার শেখানো বুলি সবাই আওড়ায়। শুধু রাজ্য সম্পাদক নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলার সেক্রেটারিও আছেন। ওনার কথাতেই সবাইকে ইয়েস স্যার বলতে হবে। তবেই পদোন্নতি হবে। এটা কি অনৈতিক নয়?"
বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে প্রতিকুর বলছেন, “ডর কা মহল, ভয়ের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে দলের ভিতরে। গব্বর সিং-এর বিরুদ্ধে কিছুই বলা যাবেনা। হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলাতে হবে। ইয়েস স্যার বলতে হবে। সাহেব যা বলবে, সেটাই শুনতে হবে। এটা কী কালচার কমিউনিস্ট পার্টিতে? প্রশ্ন করলেই কাঁচি হবেন।”
প্রতিকুরের কথা থেকেই পরিষ্কার যে, সিপিএম-এর অন্দরে রীতিমতো ‘একনায়কতন্ত্র’ চলছে। অর্থাৎ, মহম্মদ সেলিম এবং তাঁর ‘পেয়ারের লোক'-রা যা বলবেন সেটাই হবে! শুধু তাই নয়, এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য সম্পাদক উল্টে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। গাড়ির ভিতর থেকে একটি কলার খোসা দেখিয়ে কাঁচ তুলে পালিয়ে গেছেন। গোটা বিধানসভায় ‘শূন্য হয়ে যাওয়া একটা দলের সম্পাদকের এই অসভ্য আচরণ দেখে ছিঃ ছিঃ করতে শুরু করেছেন অনেকেই।
প্রশ্ন করতেই লবিবাজির শিকার প্রতিকুর?
তাহলে কি ‘মধ্যবিত্তায়ন' প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে সিপিএমে? কারণ, সিপিএম যে শ্রেণির কথা বলে, সেই শ্রেণিরই নেতা প্রতিকুর। গরীব মুসলমান প্রতিবার থেকে উঠে আসা, আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির তরুণ নেতা হিসেবে নিজেকে যথেষ্ট প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন প্রতিকুর। বাম মহলে লড়াকু হিসেবে শক্তিশালী পরিচিতি রয়েছে তাঁর। সেই তরুণ নেতার সঙ্গেই তাহলে অভব্য আচরণ দলের অন্দরে। প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।
অন্যদিকে, প্রতিকুর ইস্যু এবার ক্লোজ করতে চাইছে রাজ্য সিপিএম। হয়ত শুক্রবারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে পারে দল। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বৃহস্পতিবার থেকে দু-দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সেই বৈঠকে আবার যোগ দিয়েছেন সিপিএম-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই হয়ত প্রতিকুরকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার যে, প্রতিকুর প্রকাশ্যে অনেককিছু খোলসা করে দিলেন। সিপিএম-এর অন্দরে সেলিমের 'একনায়কতন্ত্র'-কে চ্যালেঞ্জ করে এই তরুণ নেতা বুঝিয়ে দিলেন, প্রশ্ন আরও উঠবে। সময় সব উত্তর দিয়ে দেবে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
