২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। ভালোবাসার দিন পালনে ব্যস্ত গোটা দেশ। দিকে দিকে প্রেম-ভালোবাসা-সম্প্রীতি-মৈত্রীর বার্তা। কিন্তু ঠিক তখনই কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সেনা কনভয়ে ভয়ঙ্কর আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ৪০ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান। রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ভালোবাসার দিন। হামলার দায় স্বীকার করে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গী সংগঠন। জঙ্গি হামলা নিহতদের মধ্যে ছিলেন বাংলার দুই বীর সন্তান হাওড়ার বাবলু সাঁতরা ও নদিয়ার সুদীপ বিশ্বাস। কিন্তু ঘটনার দুই বছর পর আক্ষেপের সুর শোনা গেল শহিদ সুদীপ বিশ্বাসের পরিবারে।

"

পুলওয়ামা কাণ্ডের ২ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল। নদিয়ার  পলাশীপাড়া থানার, হাসপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শহিদ জওয়ান সুদীপ বিশ্বাসের বাড়িতে হল শহীদ স্মরণ। শ্রদ্ধা জানানো হয় শহিদ সুদীপ বিশ্বাসকে। ২০১৯ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারির নির্মম ঘটনার পর শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে একাধিক আশ্বাস  দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার। ঘটনার ২ বছর কেন্দ্রের সরকারের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ বা আক্ষেপ প্রকাশ না করলেও, রাজ্য সরকারের ব্যবহারে আক্ষেপ প্রকাশ করল সুদীপ বিশ্বাসের পরিবার। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ না হওয়াতেই আক্ষেপ প্রকাশ করল শহিদ জওয়ানের পরিবার।

"

সুদীপ বিশ্বাসের বাড়িতে বাৎসরিক কাজ করছেন বাবা সন্ন্যাসী বিশ্বাস।   অভিযোগ, রাজ্য সরকার সেই সময় পরিবারের একজনকে একটা চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ পর্যন্ত সেই চাকরি দেয়নি। বিডিওর কাছে সব কাগজ জমা দিলেও বিডিও তা হারিয়ে ফেলেন বলেও অভিযোগ করেছেন শহিদ জওয়ানের বাবা। দ্বিতীয়বার কাগজ জমা দেওয়া হলেও, কাজ হয়নি বলে দাবি তার।

"

একই অভিযোগে সরব হয়েছেন শহীদ সুদীপ বিশ্বাসের বোন ঝুম্পা বিশ্বাস। তার কথায়, পুলওয়ামা কাণ্ডের পর রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বাড়ির সামনে রাস্তা সংস্কার ও পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। বাড়ির সামনের রাস্তার তৈরির কাজ চললেও, তা এখনও শেষ হয়নি। একইসঙ্গে পরিবারের কাওকে এখনও চাকরি দেয়নি রাজ্য সরকার। দ্রুত সেই চাকরি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন শহিদের বোন।

"

পুলওয়ামার কাণ্ডের দেশের বীর সন্তানদের শহিদ হওয়ার ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোট দেশকে। বাংলার সুদীপ বিশ্বাস ও বাবলু সাঁতরাকে শ্রদ্ধা জানাতেও ঢল নেমেছিল সাধারণ মানুষের। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিল রাজনৈতির দল থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। কিন্তু ঘটনার ২ বছর পর কেনও সুদীপ বিশ্বাসের পরিবারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করল না রাজ্য সরকার, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।