রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেশমচাষ (সেরিকালচার) বিভাগের গবেষকরা ব্যাকটেরিয়ার একটি নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'মাইক্রোমোনোস্পোরা শ্যামাপ্রসাদি' (Micromonospora shyamaprasadi)। প্রায় তিন বছরের গবেষণার পর সেরিকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অমিত কুমার মণ্ডল এবং তাঁর গবেষণা দল এই আবিষ্কারটি করেন।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের আবহে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেশমচাষ (সেরিকালচার) বিভাগের গবেষকরা ব্যাকটেরিয়ার একটি নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'মাইক্রোমোনোস্পোরা শ্যামাপ্রসাদি' (Micromonospora shyamaprasadi)। প্রায় তিন বছরের গবেষণার পর সেরিকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অমিত কুমার মণ্ডল এবং তাঁর গবেষণা দল এই আবিষ্কারটি করেন। প্রস্তাবিত এই নামটি 'সিক-কোড' (SeqCode)—যা সিকোয়েন্স ডেটা বা জিনগত তথ্যের ভিত্তিতে প্রোক্যারিওট বা আদি-নিউক্লিয়াসযুক্ত অণুজীবের নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়ম—এর অধীনে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে, যার ফলে এই নামকরণটি এখন সরকারিভাবে গৃহীত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গবেষকদের মতে, নতুন শনাক্ত হওয়া এই ব্যাকটেরিয়াটি তুঁত গাছের 'রাইজোস্ফিয়ার' বা গাছের শিকড়-সংলগ্ন মাটি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষক দলটি মনে করে অ্যান্টিবায়োটিক, এনজাইম এবং অন্যান্য জৈবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ যৌগ উৎপাদনে এই প্রজাতিটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, 'মাইক্রোমোনোস্পোরা' গণের ব্যাকটেরিয়াগুলো চিকিৎসাক্ষেত্রে মূল্যবান অ্যান্টিবায়োটিক এবং শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এনজাইম উৎপাদনের জন্য আগে থেকেই পরিচিত।

তাঁরা আশা করছেন যে, নতুন আবিষ্কৃত এই প্রজাতিটি চিকিৎসা বিজ্ঞান, জৈব-প্রযুক্তি এবং টেকসই কৃষির ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অগ্রগতিতে অবদান রাখবে। অমিত কুমার মণ্ডল জানান, গবেষকরা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চেয়েছিলেন। তাঁরা তাঁকে দেশের মাটি ও নিজস্ব সত্তা রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ এক নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, "আমরা মাটিতে এই ব্যাকটেরিয়াটি আবিষ্কার করেছি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই ভূমি রক্ষায় তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মনে হচ্ছে এই ব্যাকটেরিয়াটি এমন কিছু যৌগ তৈরি করে যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে, যা এর অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে কৃষিক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ হতে পারে। আর যদি এর অ্যান্টিবায়োটিক যৌগগুলোকে বিশুদ্ধ ও পৃথক করা সম্ভব হয়, তবে তা চিকিৎসা বিজ্ঞানেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করতে পারে।" তিনি আরও যোগ করেন, "এই আবিষ্কারটি অ্যান্টিবায়োটিক উন্নয়ন, কৃষি-জৈবপ্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবায় অণুজীবের প্রয়োগ সংক্রান্ত গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।"

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন এই আবিষ্কারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেন বলেন, "গবেষকরা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি শনাক্ত করে অসাধারণ কাজ করেছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন গঠনমূলক প্রয়োগে অবদান রাখার ক্ষমতা এই আবিষ্কারের রয়েছে। যেহেতু রাজ্যে বর্তমানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে, তাই গবেষকরা যথার্থভাবেই তাঁর সম্মানে এই ব্যাকটেরিয়ার নামকরণ করেছেন।"