Rejinagar byelection: রেজিনগর আসনে উপ নির্বাচন শুরু হতেই পুলিশের হাতে আটক নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। কেন তাকে আটক করা হল? বিস্তারিত জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

Rejinagar byelection: রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রেজিনগর থানার পুলিশের হাতে 'আটক' হলেন নওদার বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। উপনির্বাচন শুরু হওয়ার পর সকাল আটটা নাগাদ রেজিনগর থানার পুলিশ হুমায়ুন কবীরকে রেজিনগরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কার্যালয় থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

কেন পুলিশের হাতে আটক হুমায়ুন কবীর?

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরু হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর সকাল সকাল নিজের পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে শক্তিপুরে নিজের গ্রামের বুথে ভোট দেন। এরপর গাড়ি করে সোজা রেজিনগরে দলীয় কার্যালয়ে চলে আসেন। সূত্রের খবর সেই দলীয় কার্যালয়ে বসে হুমায়ুন কবীর বিভিন্ন জায়গায় 'হিংসা' এবং 'উত্তেজনায়' উস্কানি দিচ্ছিলেন। এই অভিযোগ পেয়ে রেজিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অঞ্জন বর্মন বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির দলীয় দপ্তরে পৌঁছে যান।

পুলিশ কর্মীরা এরপর হুমায়ুন কবীর।কে দলীয় দপ্তর থেকে সোজা নিজের বাড়িতে চলে যেতে বলেন যদিও হুমায়ুন কবীর পুলিশের এই নির্দেশ মানতে রাজি হননি। এরপরই পুলিশ হুমায়ুন কবীরকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে রেজিনগর থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। গাড়িতে চাপার সময় হুমায়ুন কবীর বলেন," আমাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না আটক করা হচ্ছে আমি কিছুই জানিনা। " অন্যদিকে হুমায়ুন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে রেজিনগরের বিভিন্ন বুথে তাদের দলীয় এজেন্টদের বসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ১৪ জন, মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬৩৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। এই কেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি নতুন ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ৪৪৫ জন। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার ৩ হাজার ২৩১ জন, ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটার ৩৬ জন এবং ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটার ১ হাজার ৬৯৭ জন। সার্ভিস ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ১১১।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ১৫৭ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৬৭৭ জন, মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৭৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সি ভোটার রয়েছেন ২ হাজার ১৬ জন। এই কেন্দ্রে বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার ২ হাজার ১৮০ জন, ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটার ৪২ জন এবং ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটার ১ হাজার ৮৮৪ জন। সার্ভিস ভোটারের সংখ্যা ৭৩৮।

প্রার্থী সংখ্যাতেও নজর

রেজিনগর কেন্দ্রে মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনই পুরুষ। অন্যদিকে নন্দীগ্রামে মোট প্রার্থী ৯ জন—এর মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ১ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন।

৬৩৮টি বুথে ভোট

দুই বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ৬৩৮টি পোলিং স্টেশন, যার মধ্যে সহায়ক বুথও রয়েছে। রেজিনগরে মোট পোলিং স্টেশনের সংখ্যা ৩১৫টি। এর মধ্যে ২টি মডেল পোলিং স্টেশন এবং ২টি মহিলা পরিচালিত পোলিং স্টেশন রয়েছে। নন্দীগ্রামে মোট পোলিং স্টেশন ৩২৩টি, যার মধ্যে ১টি মডেল পোলিং স্টেশন এবং ২টি মহিলা পরিচালিত পোলিং স্টেশন রয়েছে। দুই কেন্দ্রেরই ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিপুল সংখ্যক EVM ও VVPAT

রেজিনগরে ভোটের জন্য, রিজার্ভ-সহ ৩৯০টি ব্যালট ইউনিট , ৩৮৯টি কন্ট্রোল ইউনিট এবং ৪১৮টি VVPAT ব্যবহার করা হবে। নন্দীগ্রামে থাকছে ৪৭৫টি BU, ৪৭১টি CU এবং ৪৭৩টি VVPAT।

নিরাপত্তায় ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দুই কেন্দ্রে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের তরফে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

দুই কেন্দ্রই হাই প্রোফাইল হওয়ায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ফাঁক রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নন্দীগ্রামে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি দুই কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে থাকা ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্য থেকেই উউপনির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ৭১ কোম্পানি বাহিনী নেওয়া হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।