পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া থানার কয়লাঞ্চলে সাদা কাগজে নীল কালিতে, 'লাল ঝান্ডা সংগঠনের' ব্যানারে হুমকি পোস্টার অবসরপ্রাপ্ত ইসিএল কর্মীকে।বাড়ির গ্যারাজে রাখা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে ভষ্মিভূত করা হল বেলেনো গাড়ি। 

পুরুলিয়ার (Purulia) নিতুড়িয়া থানার কয়লাঞ্চলে সাদা কাগজে নীল কালিতে, 'লাল ঝান্ডা সংগঠনের' (Laal Jhhanda Sangathon) ব্যানারে হুমকি পোস্টার অবসরপ্রাপ্ত ইসিএল কর্মীকে।বাড়ির গ্যারাজে রাখা গাড়িতে আগুন লাগিয়ে ভষ্মিভূত করা হল বেলেনো গাড়ি।পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া থানার কয়লাঞ্চল পারবেলিয়া কোলিয়ারি এলাকার ছত্রিশগড়ের লাল ঝান্ডা সংগঠনের ব্যানারে দেওয়া হুমকি পোস্টারে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এমন ঘটনায় ধ্বন্দে পুলিশও। ঘনীভূত হচ্ছে মাও রহস্য।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বৃহস্পতিবার ভোরে আচমকাই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে গ্যারাজে রাখা একটি চার চাকার বেলেনো গাড়ি। গাড়ির দিকে তাঁকাতেই পাওয়া যায় এক হুমকি চিঠি। সাদা কাগজে নীল কালিতে লেখা বাড়ি মালিক অবসরপ্রাপ্ত ইসিএল কর্মী সুভাষ চট্টোপাধ্যায় উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে সেই হুমকির চিঠি। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার নিতুরিয়া থানার পারবেলিয়া কোলিয়ারি এলাকার হিজুলি গ্রামের পাশে স্কুল ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় নিতুড়িয়া থানার পুলিস । রঘুনাথপুর থেকে ছুটে আসে দমকলের একটি ইঞ্জিন।ততক্ষনে জ্বলতে থাকা গাড়িটির আগুন নেভায় স্থানীয় বাসিন্দারা। নিতুড়িয়া ব্লকের সরবড়ি গ্রামপঞ্চায়েতে নির্মান সহায়ক পদে কর্মরত তণ্ময় মণ্ডল স্থানীয় সুভাষ চ্যাটার্জীর বাড়িতে ভাড়ায় থাকেন। এদিন তণ্ময়বাবু জানান, বাড়ির গ্যারাজেই রাখা থাকে গাড়ীটি। হঠাৎ ভৌর পাঁচটা নাগাদ আওয়াজ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখি গাড়িতে আগুন লেগেছে। বাড়ির মালিক সুভাষ চট্টোপাধ্যায় জানান, 'কী করে এমন হল বুঝতে পারছি না। নিতুড়িয়া থানার পুলিস হুমকি দেওয়া চিঠিটি উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছে।' তবে এই চিঠি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। 'এরকম ঘটনা আগে ঘটেনি', বলে জানান স্থানীয়রা।

হুমকি দেওয়া ওই চিঠিতে বাংলা-হিন্দি মিশিয়ে লেখা রয়েছে, 'সুভাষ তুমি বেটা-বেটিকে সহি সলামত দেখার ইচ্ছে আছে তো, এই নম্বরে কল করবে। এসবে পুলিশ এবং লোককে ইন্টারফেয়ার করলে তুমি বুঝবে', বলে সেখানে ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। সময় ২৯ তারিখ অর্থাৎ এদিন সন্ধ্যাে সাতটা। তবে এই হুমকি চিঠির সত্যতা নিয়ে যাচাই করে দেখেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। বেশ কয়েকমাস আগেও জঙ্গলমহল পুরুলিয়া বরাবাজার বলরামপুর এবং ঝালদা কোটশিলা লাকায় পরপর মাও পোস্টার উদ্ধার হলেও এর আগে কোনদিনও রঘুনাথপুর মহাকুমা এলাকার আসানসোল শিল্পাঞ্চল লাগোয়া তথা পুরুলিয়া জেলার একমাত্র খনি অঞ্চল পারবেলিয়া এলাকায় এভাবে হুমকি পোস্টার দেওয়া হয়নি । যদিও সাদা কাগজে নীল কালিতে লেখা "লাল ঝান্ডা সংগঠন ছত্রিশগড়" নামে যে হুমকি পোস্টার দেওয়া রয়েছে সেটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। পোস্টারে কোথাও মাওবাদীদের নাম না থাকলেও এই পোস্টার তাহলে কারা দিয়েছে, সে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এলাকার রাজনৈতিক মহলে। তাহলে কি লাল ঝান্ডা সংগঠন নামে নতুন কোনও উগ্রবাদী গোষ্ঠী বা দুষ্কৃতি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, না অন্য কিছু। পুলিশি তদন্তের পরেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তবে এদিনের ঘটনার পর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে ইসিএলের ওই খনি এলাকায়।