আরজি কর মামলায় আবার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বৃহস্পতিবার সিবিআই-এর অধীনে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্যই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরজি কর মামলায় আবার নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত বৃহস্পতিবার সিবিআই-এর অধীনে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্যই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষকে নিয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর প্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং অপরাধের বিস্তারিত তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখবে এই বিশেষ তদন্তকারী দল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

‘ডিনার থেকে মৃতদেহ দাহ’, তদন্তের আওতায় সবটাই

এদিনের শুনানিতে সিবিআই-এর তদন্তের শ্লথ গতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। ক্ষুব্ধ বিচারপতির প্রশ্ন, "গত বছরের ৭ অক্টোবর আদালতে ২৪ পাতার প্রাথমিক চার্জশিট দাখিল করার পর থেকে, আজ পর্যন্ত পরবর্তী এই ১ বছর ৭ মাস ধরে আসলে কী তদন্ত করল সিবিআই?" আদালতের এই প্রশ্নের মুখে পড়ে অবশ্য পিছু হঠেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআই-এর আইনজীবীরা পাল্টা জবাবে আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, তদন্ত কিন্তু থমকে নেই। এই দীর্ঘ সময়ে ওই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বয়ান ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন তদন্তকারীরা। এরপরেই আদালতের সিট গঠনের নির্দেশ দেয়, সিবিআই-এর যুগ্ম অধিকর্তা (পূর্বাঞ্চল) এই তদন্তকারী দলের নেতৃত্ব দেবেন। দলের বাকি দুই সদস্যের নাম আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত করতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার ক্রমপঞ্জি বা ধারাবাহিকতা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে সিটকে। ঠিক যে সময়টিতে অভয়া রাতের খাবার খেয়েছিলেন, সেই সময় থেকে শুরু করে পরদিন সন্ধ্যায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত পুরো সময়ের ঘটনাক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ২৫ জুনের মধ্যে এই তদন্তকারী দলকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ওই দিনই মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

অভয়ার বাবা-মা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে ঘটনার আরও গভীর ও বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, এই অপরাধের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল এবং ঘটনার অব্যবহিত পরেই বিষয়টি লঘু করে দেখানোর বা ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। এর আগে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে সঞ্জয় রায় নামের এক 'সিভিক ভলান্টিয়ার'-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি অভয়ার মা রত্না দেবনাথকে প্রার্থী করেছিল। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ে রত্না দেবনাথ এক বিশাল জয় ছিনিয়ে আনেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে ২৮,৮৩৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।