ব্যবধান মাস দুয়েকের। ফের ডুয়ার্সের অভয়ারণ্যে মৃত্যু হল একটি পূর্ণবয়স্ক গণ্ডারের। বুধবার সকালে রুটিন তল্লাশির সময়ে গরুমারা অভয়ারণ্যে গণ্ডারের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন বনকর্মীরা। তবে গণ্ডারটি খড়গ অক্ষত ছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, জঙ্গলের সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ে প্রাণ গিয়েছে প্রাণীটির। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছেন বনকর্মীরা। এদিকে ডুয়ার্সে একের পর এক গণ্ডারের মৃত্যুতে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবেশপ্রেমীদের। ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

ডুয়ার্সের জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা ১৫৫ আর গরুমারায় ৫২। স্বাভাবিক নিয়মে প্রজননের জন্য দুটি স্ত্রী গণ্ডার পিছু একটি পুরুষ গণ্ডার থাকা প্রয়োজন। তেমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।  কিন্তু গরুমারা-ই বলুন কিংবা জলদাপাড়া, ডুয়ার্সের অভয়ারণ্যে স্ত্রী ও পুরুষ গণ্ডারের অনুপাত ঠিক নেই বলে জানা গিয়েছে। বনদপ্তরের দাবি, জঙ্গলে সঙ্গিনীর দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে দুটি পুরুষ গণ্ডারের মধ্যে লড়াই বেধে যায়। আর সেই লড়াইয়ে গণ্ডারের জখম হওয়া, এমনকী মৃত্যুর ঘটনা বিরল নয়।  তাহলে কি সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়েই গরুমারা অভয়ারণ্যে প্রাণ গেল আরও একটি পূর্ণবয়ষ্ক গণ্ডারের? প্রাথমিক তদন্তে তেমনটাই অনুমান বনদপ্তরের।  জানা গিয়েছে, গরুমারা অভয়ারণ্যে মৃত গণ্ডারটি ঘাড়মোটা নামে পরিচিত ছিল।  ডুয়ার্সের বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী অনির্বাণ মজুমদারের বক্তব্য, বিশাল দেহের ওই প্রাণীটিকে সমীহ করে চলত অন্যন্য গণ্ডাররাও। সঙ্গিনী দখলের লড়াইয়ে ঘাড়মোটার মৃত্যু হয়েছে, একথা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।  তদন্তের করে সঠিক তথ্য প্রকাশ্যে অত্যন্ত জরুরি।

মাস দুয়েক আগের ঘটনা। সকালে ডুর্য়াসের জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে যখন রুটিন তল্লাশি চালাচ্ছিলেন বনদপ্তরের কর্মীরা, তখন জঙ্গলের কোর এলাকার এক পূর্ণবয়ষ্ক গণ্ডারের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা।  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গণ্ডারটির একটি খড়গ কাটা ছিল, গুলির ক্ষত ছিল শরীরের বেশ কয়েকটি জায়গায়। বস্তুত, রাতে জঙ্গলে গুলির আওয়াজও শোনা গিয়েছিল বলে দাবি করেন বনবস্তির বাসিন্দারা। ঘটনার রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বনকর্মীদের ধারনা, জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের কোর এলাকায় ঢুকে গণ্ডারটিকে গুলি করে মেরেছে চোরাশিকারীই।  তারও আগে  ২০১৭ সালে আবার গরুমারা অভয়ারণ্যেই চোরাশিকারীদের হাতে প্রাণ গিয়েছিল আরও এক গণ্ডারের।