পরিত্যক্ত বাড়িতে কারও যাতায়াত ছিল না। বল হারিয়ে যাওয়ায় সেখানে ঢুকে পড়েছিল গ্রামের কয়েকটি শিশু। আর তারাই আবিষ্কার করে ফেলল ডাইনোসরের ফসিল বা জীবাষ্ম! এমনই ঘটনায় জোর চাঞ্চল্য ছড়ালো উত্তর চব্বিশ পরগণার আমডাঙা এলাকায়। গ্রামের অনেকে অবশ্য বলছেন, গোসাপের কঙ্কালকেই ডাইনোসেরর বলে ভুল করছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।

রবিবার দিনভর ডাইনোসরের ফসিল দেখতে ভিড় জমেছিল আমডাঙার উত্তর বোদাই গ্রামের ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে। খবর পেয়ে সেখানে যায় আমডাঙা থানার পুলিশও। জানা গিয়েছে, গ্রামের কয়েকটি ছেলে এলাকারই একটি মাঠে খেলা করছিল। খেলতে খেলতে বল চলে যায় ওই পরিত্যক্ত বাড়িটিতে। বল খুঁজতে গিয়ে তাঁরাই প্রথম ওই কঙ্কালটি দেখতে পায়। তাদের মধ্যে দু' একজন সেই ছবি তুলে গ্রামের অন্যদের দেখায়। ছড়িয়ে পড়ে, গ্রামের মধ্যে ডাইনোসরের ফসিল উদ্ধার হয়েছে। 

এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমে যায় ওই পরিত্যক্ত বাড়িটিতে। গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাড়িটি এ ভাবে পড়ে রয়েছে। আগে এক বাসিন্দা থাকলেও তাঁর মৃত্যুর পর থেকে কেউ ওই বাড়িতে থাকেন না। কিন্তু উদ্ধার হওয়া ওই কঙ্কাল ডাইনোসরের কি না, তা নিয়ে গ্রামবাসীদেরই কয়েকজন সংশয় প্রকাশ করেন। তাঁদের ধারণা, ওটি গোসাপের কঙ্কাল। 

এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে অবশ্য সিংহভাগ জনতাই ওই কঙ্কালকে ডাইনোসরের জীবাষ্ম বলে মত দেয়। অতীতে কোনওভাবে আমডাঙার গ্রামে ডাইনোসরের বিচরণ সম্ভব কি না, তা নিয়েও শুরু হয়ে যায় আলোচনা। আমডাঙা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিশেষজ্ঞদের আনিয়ে কঙ্কাল পরীক্ষার দাবি ওঠে। 

আরও পড়ুন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে আছে এক ডাইনোসর, অবহেলায় পড়ে রয়েছে কলকাতাতেই

গ্রামেরই বাসিন্দা তুতান ঘোষ নামে এক যুবক বলেন, 'আমাদের দেখে মনে হচ্ছে ওটা ডাইনোসরের কঙ্কাল। কিন্তু সেই দাবি ঠিক কি না তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসা হোক। ওই বাড়িতে তো কেউ থাকতেন না। হতেই পারে এতদিন জীবাষ্মটি ওখানে ছিল, কিন্তু কারও চোখে পড়েনি।'