মুর্শিদাবাদের ফের স্ক্রাব টাইফাসের মরণ কামড়। এবার প্রাণ গেল এক কিশোরীর। জ্বরের উপসর্গ নিয়ে বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল সে। এই নিয়ে মুর্শিদাবাদে স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল তিনজনের।  

মৃতের নাম তামান্না ফিরদৌস। বাড়ি, বহরমপুরের কর্ণসুবর্ণ এলাকায়। স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল তামান্না। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছে, বুধবার রাতে হঠাৎ জ্বর আসে তার। হাতে চাকা চাকা দাগও দেখা যায়। সেদিনই ওই কিশোরীকে ভর্তি করা হয় বহরমপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বুধবার রাতেই চিকিৎসা চলাকালীন তামান্নার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। শেষপর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় সে। ডেথ সার্টিফিকেটেও স্ক্রাব টাইফাসের উল্লেখ আছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে হাসপাতালে বিরুদ্ধে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন মৃতার পরিবারের লোকেরা। তাঁদের দাবি, তামান্না যে স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়েছে, প্রথমে তা বুঝতে পারেননি বহরমপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা। ফলে সময়মতো চিকিৎসাও শুরু হয়নি। রোগটি যদি সঠিক সময়ে ধরা পড়ত, তাহলে ওই কিশোরী বাঁচানো যেত।

আরও পড়ুন: প্রেমিকার ভিডিও কলে আত্মঘাতী যুবক, গ্রেফতার অভিযুক্ত

দিন কয়েক আগে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যান তরুণ সরকার নামে এক ব্যক্তি।  তিনিও স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়ছিলেন। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগে হঠাৎ-ই জ্বর আসে তরুণের। সঙ্গে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা। প্রথমে তাঁকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উপযুক্ত চিকিৎসা হয়নি বলে অভিযোগ। ওই যুবককে যখন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তখন তাঁর শারীরিক অবস্থা রীতিমতো সংকটজনক।  শেষপর্যন্ত তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় বহরমপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। গত ২৪ নভেম্বর মারা যান নবগ্রামে বাসিন্দা তরুণ সরকার। তার আগে কলকাতায় হাসবাতালে স্ক্রাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন আরও একজন। তিনিও মুর্শিদাবাদেরই বাসিন্দা ছিলেন।