পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে, যার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য বা তথ্য প্রকাশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হল। এই নিয়ম আইএএস, পুলিশ থেকে শুরু করে শিক্ষক ও পুরসভার কর্মীদের মতো বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দায়িত্ব নিয়েই একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সেই পর্যায়ে এবার তাঁর হাতে থাকা প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের তরফে এক কড়া নির্দেশিকা জারি করা হল। সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা, সরকারি নথি বা তথ্য প্রকাশ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ-সব ক্ষেত্রেই এবার কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হল।

নবান্ন সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময় বিভিন্ন সরকারি কর্মচারীর সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশ এবং প্রশাসবিত তথ্য বাইরে চলে যাওয়ায় অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা জারি করার পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, এভাবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরকারি আধিকারিক তথ্য কর্মচারীদের যোগাযোগের ওপর কড়া নজরদারি বন্দোবস্ত করল রাজ্য সরকার।
নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, আইএএস, WBCS, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিস-র আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি কর্মচারী, জেল কর্মী, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বোর্ড, পুরসভা, পুর নিগম ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী কোনও মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকী, বেসরকারি ভাবে তৈরি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানেও যোগদানের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এই নির্দেশিকার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীের জনসমক্ষে মত প্রকাশের ক্ষেত্র আরও সীমাবদ্ধ করা হল। এই নির্দেশিকা মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালের জারি করা নির্দেশিকাটি রাজ্যের সমস্ত দফতর, কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই সার্কুলারের অধীনস্থ সমস্ত অফিসে দ্রুত প্রচার করাতে হবে এবং কঠোর ভাবে কার্যকর করতে হবে।
প্রতিশ্রুতি রাখছেন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী। দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। শুরু হয়ে গেছে পুলিশ এবং সেন্ট্রাল এজেন্সির তল্লাশি অভিযান। সে প্রাক্তন মন্ত্রী হোক কিংবা কোনও নেতা, কাউকে রেয়াত করা হচ্ছে না। অভিযোগ থাকলেই সোজা গ্রেফতার। তথ্য বলছে, সরকার গঠনের মাত্র ১১ দিনের মধ্যেই দুর্নীতি সহ একাধিক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে মোট ১৩ জন হেভিওয়েটকে।


