সব ছাত্রছাত্রীকে পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদে সামিল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার পড়ুয়ারা।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এ বছরের মতো উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়। এদিকে পরীক্ষা নেওয়া না হলেও পাশ করতে পারেনি বহু পড়ুয়া। এরই প্রতিবাদে উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় সরব হল পড়ুয়ারা। সব ছাত্রছাত্রীকে পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাহত হয় যান চলাচল। আটকে পড়ে কলকাতা-শিলিগুড়ি গামী বহু যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী লরি। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুন- রুমেনাকে 'মুসলিম কন্যা' মন্তব্য, মহুয়া দাসের পদত্যাগ চাইল ইমাম অ্যাসোসিয়েশন, সরব BJP-Congress

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ দেশে আছড়ে পড়ার পরই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হবে কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। তারপর আইসিএসই ও সিবিএসই পরীক্ষা এবছরের মতো বাতিল ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরে সেই পথেই হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পড়ুয়া, অভিভাবক ও শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে বাতিল করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। তবে পরীক্ষা না হওয়ায় পড়ুয়াদের বিকল্প পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন। সেই ভিত্তিতে মূল্যায়নের পরই গতকাল প্রকাশিত হয় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। যদিও বেশ কয়েকজন পড়ুয়া উত্তীর্ণ হতে পারেনি বলে গতকালই সাংবাদিক বৈঠকের সময় জানিয়েছিলেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মহুয়া দাস। তাদের জন্য পরীক্ষার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। 

এদিকে গতকাল ফল প্রকাশ হলেও হাতে মার্কশিট পায়নি পড়ুয়ারা। আজ মার্কশিট পাওয়ার পরই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির ছবি ধরা পড়ে। সব ছাত্রছাত্রীকে পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হয় পড়ুয়ারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় চোপড়ায়। চোপড়া হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীদের এই জাতীয় সড়ক অবরোধের জেরে আটকে পড়ে কলকাতা-শিলিগুড়ি গামী বহু যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী লরি। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চোপড়া থানার পুলিশ। 

আরও পড়ুন- মাধ্যমিকে ৯৯ শতাংশ নম্বর, মেধাবী ছাত্রী উৎসার স্বপ্ন ভাঙতে বসেছে অভাবে

এবারে উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যে পাশের হার ৯৭.৬৯ শতাংশ। এত পাশের হারেও চোপড়া হাইস্কুলের বহু উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। পড়ুয়াদের দাবি, "আমরা পরীক্ষাই দিলাম না অথচ আমাদের ফেল করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ফলাফল আমরা মানব না।" তাই স্কুলের সব উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবি জানায় তারা।