হঠাৎ করেই বদলে ফেলা হল প্রিন্সিপাল। ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকেরা। ঋষি অরবিন্দ মেমোরিয়াল অ্যাকাডেমিতে হুলুস্থুল কাণ্ড!

কলকাতা এয়ারপোর্ট সংলগ্ন ঋষি অরবিন্দ মেমোরিয়াল অ্যাকাডেমি (Rishi Aurobindo Memorial Academy) তে হুলুস্থুল কাণ্ড! হঠাৎ করেই বদলে ফেলা হল প্রিন্সিপাল। ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রিন্সিপাল ববি ব্যাক্সটার-কে কোনওরকম আগাম ঘোষণা বা অভিভাবকদের কিছু না জানিয়েই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে নতুন প্রিন্সিপাল নিয়োগ করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। অভিভাবকদের দাবি, ববি ব্যাক্সটার ছাত্রছাত্রীদের অত্যন্ত ভালবাসতেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গেও তাঁর অত্যন্ত ভাল সম্পর্ক ছিল। কোনও পড়ুয়া না খেলে তিনিও খাবার খেতেন না, এমন উদাহরণও তুলে ধরেছেন অভিভাবকরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রিন্সিপাল অত্যন্ত ভাল ছিলেন। ফলে তাঁকে আচমকা সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাঁরা বিস্মিত।

অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ভর্তি করানোর বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন ববি ব্যাক্সটার। এই বিষয়ে তিনি মুখ খোলার পরই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি তাঁদের। এমনকী তাঁকে পুলিশ দিয়ে স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিভাবকদের আরও দাবি, ববি ব্যাক্সটার-কে স্কুলে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকী তিনি যাতে অভিভাবক কিংবা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে না পারেন, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ দিকে দীর্ঘদিন প্রিন্সিপালকে দেখতে না পেয়ে অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হলে কখনও প্রিন্সিপালের দাঁতে ব্যথা বা কখনও শারীরিক অসুস্থতার মতো বিভিন্ন কারণ দেখানো হচ্ছিল। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর অভিভাবকদের কাছে হঠাৎ স্কুল গ্রুপে একটি মেসেজ পৌঁছয়। সেই মেসেজের মাধ্যমে তাঁরা প্রিন্সিপাল বদলের বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি। এরপরই একাধিক অভিভাবক ২৪ তারিখ একত্রিত হয়ে স্কুলে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং স্কুল ঘেরাও করেন। অভিভাবকদের অভিযোগ, সেই সময় দেবলীনা নামে এক প্রতিনিধির সঙ্গেও তাঁদের বচসা হয় এবং তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে স্কুল চত্বর থেকে চলে যেতে বলা হয়।

এই প্রসঙ্গে এক অভিভাবক জানান, ববি ব্যাক্সটার-কে তাঁরা অত্যন্ত ভাল প্রিন্সিপাল হিসেবে দেখেছেন। তাঁর দাবি, ছাত্রছাত্রীদের প্রতি প্রিন্সিপালের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণেই তাঁরা তাঁর অপসারণ মেনে নিতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা নিয়ে স্কুলে অ্যাডমিশনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরই প্রিন্সিপালকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের ঘটনা যাতে উৎসাহ না পায়, তার জন্য তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে তা দমদমের বিধায়ক অরিজিৎ বক্সির কাছে জমা দেবেন। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও বিষয়টি জানানো হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।অভিভাবকদের মূল দাবি, ববি ব্যাক্সটার-কে ফের প্রিন্সিপালের পদে ফিরিয়ে আনা হোক এবং অতিরিক্ত টাকা নিয়ে অ্যাডমিশনের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হোক। তাঁদের আরও বক্তব্য, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবিতে সাড়া না দিলে আইন মেনে পুলিশের অনুমতি নিয়ে অবরোধ কর্মসূচির পথেও হাঁটতে পারেন তাঁরা।