Supreme Court on SIR: সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের বাকি সব রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ প্রায় নির্বিঘ্নেই হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যেও সমস্যা থাকলেও, বাংলা ছাড়া আর কোথাও থেকে তেমন কোনো মামলা আসেনি বলেই মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি। 

নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া বাকি সব রাজ্যেই মোটামুটি মসৃণভাবে হয়েছে। শুক্রবার এক মামলার শুনানিতে এমনই মৌখিক মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের প্রতিক্রিয়া SIR নিয়ে 

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, অন্যান্য রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে তেমন কোনো মামলা-মোকদ্দমা হয়নি। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া যে রাজ্যগুলোয় SIR হয়েছে, সেখানে সব মসৃণভাবেই এগিয়েছে। অন্য রাজ্যেও যে একেবারে সমস্যা নেই তা নয়, কিন্তু বাংলা ছাড়া অন্য রাজ্য থেকে তেমন কোনো মামলাই আসেনি।" পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়ায় একাধিক পদ্ধতিগত অনিয়মের অভিযোগ তুলে একগুচ্ছ মামলা হয়েছিল। সেই মামলাগুলোর শুনানিতেই এই মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত।

শুনানির সময় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা সিনিয়র আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী আদালতে অনুরোধ করেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার তারিখ যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়। যাতে তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা তাদের অভিযোগ জানানোর এবং নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পান। এর জবাবে আদালত জানায়, "প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই বিষয়টি দেখব। আপাতত সবকিছু ঠিকঠাকই চলছে।" এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি আর্জি খারিজ করে দেয়। রাজ্যের তরফে আর্জি জানানো হয়েছিল, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশন যাতে কোনও নির্দেশ না দেয়, সেই বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করুক।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে বিষয়টি উল্লেখ করেন সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল। সিব্বলের যুক্তি ছিল, আদালতের আগের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কমিশন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের জন্য একটি 'ট্রেনিং মডিউল' তৈরি করেছে। তাঁর মতে, এটি একপ্রকার নির্দেশ দেওয়ার সামিল যে কোন নথি কীভাবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, কমিশন এইভাবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নির্দেশ দিতে পারে না, কারণ তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে সক্ষম।

প্রসঙ্গত, গত ২১ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ আদালত একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছিল। কমিশনের তৈরি করা "লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি" তালিকায় থাকা ভোটারদের দাবি মেটানোর জন্য জেলা জজদের নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। পশ্চিমবঙ্গে SIR প্রক্রিয়া মসৃণভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানান, প্রায় ২৫০ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে নিয়োগ করা সত্ত্বেও লোকবলের অভাব রয়েছে। এই কথা জানার পর সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিভিল জজ এবং এমনকি ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকেও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করার অনুমতি দেয়।