উত্তম দত্ত, হুগলি:  সি কে নাইডুই হোক কিংবা রঞ্জি ট্রফি, বাংলার ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত মুখ তিনি। এবার সুযোগ পেলেন আইপিএলেও। অবশেষে স্বপ্নপূরণ হল চুঁচুড়ার সুর্যকান্ত পান্ডার। ১৯ অগাস্ট বেঙ্গালুরু রওনা দেবেন তিনি। সেখানে করোনা পরীক্ষার পর, ২৭ তারিখ উঠবেন দুবাইগামী বিমানে।

আরও পড়ুন: কেনও সন্ধা ৭টা ২৯ মিনিটে অবসর ঘোষণা ধোনির, পেছনে রয়েছে নাকি এই মহাজাগতিক কারণ

কে এই সূর্যকান্ত পান্ডা? আদি বাড়ি ওড়িশার বালেশ্বরে। প্রায় দু'দশক আগে বাবার হাত ধরে চলে এসেছিলেন হুগলির চুঁচুড়ায়। আর ফেরা হয়নি। বাবা মারা গিয়েছেন বহুদিন আগে। মাধ্যমিক পাশ করার পর পেটের দায়ে স্থানীয় একটি মুদিখানার দোকানে কাজ নেন সূর্য। ছোট থেকে ক্রিকেট খেলার প্রতি কেমন যেন একটি ভালোবাসা জন্মে গিয়েছিল! ব্যাট হাতে কোনওদিন অবশ্য মাঠে নামা হয়নি ভিনরাজ্যের ওই যুবকের। তবে সুযোগ পেলেই চুঁচুড়া ময়দানে ক্রিকেট ম্যাচে স্কোরারের ভূমিকা পালন করতেন সূর্য। এভাবেই একদিন দু'জন সিনিয়র স্কোয়ারের নজরে পড়ে যান তিনি। ব্যস! আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

আরও পড়ুন: প্রতি বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হতাশার জের, ক্লাব ছাড়ার জোড়ালো দাবি মেসির

২০১৫ সালে ইন্টারভিউ দিয়ে সিএবি-র ম্যাচে স্কোরার হিসেবে নির্বাচিত হন সূর্যকান্ত পান্ডা। সিএবি-র তালিকাভুক্ত স্কোয়ার হওয়ার সুবাদে আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতায় বহু ম্যাচে অংশ নিয়েছেন তিনি। বছর দুয়েক আগে এ রাজ্যের সেরা স্কোরারে পুরস্কার এসেছে ঝুলিতে। তা বলে একদিন যে তিনি আইপিএলের মতো হাই প্রোফাইল প্রতিযোগিতায়ও ডাক পাবেন, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি সূর্যকান্ত। কিন্ত বাস্তবে তাই-ই ঘটল। দুঃখ একটাই, ছেলের সাফল্য দেখে যেতে পারলেন না বাবা! তাঁর হাত ধরেই এসেছিলেন হুগলির চুঁচুড়া শহরে।