চন্দ্রিমার ইস্তফার পর তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল আরও বাড়ল। রবিবার সাসপেন্ডেড নেতা রিজু দত্ত প্রশ্ন তুলেছেন, কেন সবাই দল ছাড়ছেন? নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেছেন তিনি।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঠিক পরের দিনই, রবিবার, সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) মুখপাত্র রিজু দত্ত প্রশ্ন তুললেন, "সবাই দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে কেন?" একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের "সবাইকে একসঙ্গে ধরে রাখার" ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি, নাম না করে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেও তিনি কটাক্ষ করেন।

মমতাকে সকলেই ছাড়ছে কেন?
রিজু দত্ত ANI-কে বলেন, "আসল সত্যিটা হল, দিদিকে রোজ কেউ না কেউ ছেড়ে চলে যাচ্ছে, আর তাঁর পুরো টিম বাকিদের বিশ্বাসঘাতক, অসৎ বলে দাগিয়ে দিতে ব্যস্ত... সবাই কেন চলে যাচ্ছে? প্রশ্নটা তো সেখানেই। সবার অভিযোগ কিন্তু একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাকে কেন সরানো হচ্ছে না?... যদি সবাই বিশ্বাসঘাতক বা অসৎ হয়, তাহলে আপনার নিজের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে, যে আপনি দল চালাতে পারছেন না বা সবাইকে একসঙ্গে ধরে রাখতে পারছেন না...।"
চন্দ্রিমাকে নিশানা সৌগতর
এদিকে, শনিবার তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল আরও বাড়িয়ে দিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেন। এই ঘটনায় দল বড়সড় ধাক্কা খায়। রবিবার তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন যে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তাঁর কথায়, "বহিরাগতরা" পার্টি অফিস দখল করার চেষ্টা করলেও চন্দ্রিমা তার বিরোধিতা করেননি। এই কারণেই দলের অন্দরে তাঁর ওপর ক্ষোভ ছিল এবং কেউ তাঁর চলে যাওয়া আটকানোর চেষ্টা করেনি।
সৌগত রায় ANI-কে বলেন, "চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য রাজ্যের টিএমসি সভাপতি ছিলেন। বহিরাগতরা এসে অফিস দখল করার চেষ্টা করছিল। সেই সময় চন্দ্রিমা অফিসেই ছিলেন, কিন্তু তিনি কোনও আপত্তি জানাননি। এটা করে তিনি ভুল করেছেন। তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেননি। তাই দলের অন্দরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।"
সৌগত রায় আরও যোগ করেন, "উনি নিজেই দল ছেড়েছেন। আমরা ওনাকে আটকানোর চেষ্টা করিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওনাকে অনেক পদ দিয়েছিলেন। একটা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরেও অন্য আসন থেকে জিতিয়ে আনা হয়েছিল, কিন্তু উনি বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেননি।"


