পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে, বিশেষ করে শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়া এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হওয়ার পরেই এই বৈঠকগুলি হল।
শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পর রাজনাথ সিং এক্স-হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে শুভেন্দুর প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, "পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নয়াদিল্লিতে দেখা হল। তাঁর রাজনৈতিক ও আইনসভার অভিজ্ঞতা অনেক। আমি নিশ্চিত যে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবেন।"

ঠাসা কর্মসূচিতে দিল্লিতে শুভেন্দু
দিল্লি সফরে গিয়ে শুভেন্দু রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও দেখা করেন। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয়, "পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাষ্ট্রপতি ভবনে দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।"
এই বৈঠকগুলো এমন এক সময়ে হল, যখন শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা BSF-কে ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জমি হস্তান্তর করার পরেই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হয়। এই পদক্ষেপকে অঞ্চলের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সীমান্তে কাঁটাতার
সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা জমি হস্তান্তরের পর কর্মকর্তারা পুরোদমে বেড়া তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এই পদক্ষেপে এলাকার নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, নিরাপত্তার এই চিন্তা দীর্ঘদিনের।
এখানকার এক বাসিন্দা অনিল ঘোষ বলেন, "এটা একটা সীমান্ত এলাকা, যেখানে আগে কোনও নিরাপত্তাই ছিল না। এখানকার পরিবেশ এতই ভয়ঙ্কর ছিল যে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। আগে আমরা এখানে গরুও পুষতে পারতাম না। গরু পোষা মানেই ছিল বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গাদের কাছে আত্মসমর্পণ করা। এটা শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন ছিল। আজ মনে হচ্ছে, নতুন সরকার আর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় আমরা সুরক্ষিত।"
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর শুভেন্দু
কিছুদিন আগেই হাওড়ায় এক অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, রাজ্য সরকার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। এর সঙ্গে বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) এবং BSF-এর পরিকাঠামো তৈরির জন্য অতিরিক্ত জমিও দেওয়া হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, জমি বরাদ্দে আগের দেরির পর কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে নতুন করে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু আরও জানিয়েছিলেন যে, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং ৪৫ দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে জমি তুলে দেওয়া হবে, যার পরে BSF বেড়া তৈরির কাজ শেষ করবে।


