তৃণমূল যুব নেতা এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগ। আর তাকে কেন্দ্র করেই ধুন্ধুমার কাণ্ড উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। রাস্তা অবরোধ করে মোটরবাইকে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

অভিযুক্ত ওই তৃণমূল যুব নেতার নাম রেজাউল হক। সে স্থানীয় নরম পঞ্চায়েত সমিতিরও সদস্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকার বাসিন্দা একটি নাবালিকাকে উত্যক্ত করত রেজাউল। শনিবার রেজাউলের বিরুদ্ধে ওই নাবালিকা এবং তার পরিবার রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ জানাতে যায়। অভিযোগ, তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতে চায়নি পুলিশ। 

এর পরেই শনিবার রাতে রেজাউস তার দলবল নিয়ে ওই নাবালিকার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ওই নাবালিকাকে রেজাউল এবং তার বাহিনী বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগয চিৎকার, চেঁচামেচীতে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে গেলে পালাতে যায় দুষ্কৃতীরা। তখনই দুষ্কৃতীদের আনা একটি মোটরবাইক ধরে ফেলেন এলাকাবাসী। 

আরও পড়ুন- পাত্র চুয়ান্ন বছরের তৃণমূল নেতা, প্রতিবাদে বাড়ি ছাড়ল পনেরো বছরের নাবালিকা

আরও পড়ুন- শুরু হচ্ছে না নিয়োগ, মন্ত্রীর বাড়িতে ধর্নায় টেট উত্তীর্নরা

রবিবার সকাল থেকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুষ্কৃতীদের আনা মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে রায়গঞ্জ- শ্যামপুর রোড অবরোধ করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএসপি প্রসাদ প্রধান। পুলিশের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের তরফে থেকে এলাকায় শান্তি ফেরাতে মাইকে প্রচার চালানো হয়। এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বিশাখা দাস নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রেজাউল বরাবরই এলাকায় নানারকম অত্যাচার চালায়। কেউ তার প্রতিবাদ করলেই তার উপর হামলা করে রেজাউল এবং তার বাহিনী। তার দাপটে তটস্থ থাকতে হয় এলাকাবাসীকে। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের এবং দলের জেলা স্তরের নেতাদের মদতেই এত বাড়াবাড়ি করার সাহস পায় রেজাউল। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভই এ দিন জনরোষে পরিণতি হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।