শীত পড়তেই ঝিলে এসে গিয়েছে পরিযায়ী পাখীর দল। না হাওড়ার সাঁতরাগাছি বা বর্ধমানের চুপির চর নয়। ব্যান্ডেলের লোকোপাড়া এলাকায় রেল লাইনের ধারে রেলের বিশাল ঝিলেই আপাতত ভিড় করেছে কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি। 

প্রায় সারাদিনই ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখীর দলের কলরব শোনা যাচ্ছে। মূলত ভিড় করেছে লেসার হুইসলিং ডাক নামে এক ধরনের হাঁস জাতীয় পাখি। হাজার হাজার এই লেসার হুইসলিং ডাক ভিড় জমিয়েছে ঝিলের কচুরিপানায়। আর তা দেখতে পক্ষীপ্রেমীরা দলে দলে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকে আবার ক্যামেরায় ছবিও তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। 

আরও পড়ুন- ট্রি হাউসে রাত্রিবাস, এবার শীতের ছুটির ঠিকানা হোক বাঁকুড়া

আরও পড়ুন- ভরা শীতেও ফাঁকা হাজারদুয়ারি, বেলাগাম তাণ্ডবের ফল ভুগছে মুর্শিদাবাদ

ব্যান্ডেল থেকে কাটোয়া গামী লাইনে স্টেশন ছাড়ার পরই ডানদিকে দেখা যায় বিশাল ঝিলটি। সারা বছরের মধ্যে এই সময়টিতেই দেখা যায় এই পাখীর ঝাঁককে। গায়ের রং খয়েরি, উঁচু ঘাড় আর ডানা বেশ বড়। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এই হাঁসের ডাক বড়ো অদ্ভুত। মনে হয় যেন শিস দিচ্ছে। বাংলায় অভিধানে এই হাঁসের নাম পাতি সরালি। ভারত, বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়াতে এই হাসগুলিকে দেখা যায়।  

পাখি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে উড়ে বেড়ায় এই পরিযায়ী পাখিগুলি। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে হাঁসের এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তবে পক্ষী বিশারদদের মতে, এই প্রজাতিটির সংখ্যা দিনে দিনে কমছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিযায়ী পাখিদের ভিড় বাড়তে থাকে ঝিলে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে তারা ধীরে ধীরে ফিরে যেতে শুরু করে। বিশাল ঝিলের মধ্যে কচুরিপানা থাকায় পাখিদের বাসা বাঁধার আদর্শ পরিবেশ গড়ে উঠেছে। আশেপাশে জনবসতিও কম। পাখিদের যাতে কেউ বিরক্ত না করে বা মাংসের লোভে শিকার না করা হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখেন এলাকার পক্ষীপ্রেমীরা। এখানেই ডিম দিয়ে বাচ্চাদের বড় করে নতুন ঠিকানার উদ্দেশ্যে উড়ে যায় পরিযায়ীরা।