রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগের কয়েক সপ্তাহ পরেই তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন। প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বড়াইক এবং সুখেন্দু শেখর রায় বিজেপিতে যোগ দিলেন। সল্টলেকের পার্টি অফিসে তাঁদের স্বাগত জানান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগের কয়েক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের তিন প্রাক্তন সাংসদ—সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বড়াইক এবং সুখেন্দু শেখর রায়। বৃহস্পতিবার কলকাতার সল্টলেকে বিজেপির পার্টি অফিসে রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে তাঁরা গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান।

এই তিন নেতাকে দলে স্বাগত জানিয়ে শমীক বলেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছর বামফ্রন্ট এবং তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের শাসন চলেছে। এখানকার রাজনীতি বরাবর যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অস্বীকার করে এসেছে। কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে, যার ফলে সমস্ত উন্নয়ন থমকে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিশ্বাস রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের তিন সাংসদ পদত্যাগ করেন। আজ সেই তিনজন—সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বড়াইক এবং সুখেন্দু শেখর রায়—ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন। এই তিনজনই হেভিওয়েট নেতা, রাজ্যসভায় তাঁদের পারফরম্যান্স সকলেরই জানা।"
শমীক আরও বলেন, "এটা আমাদের জন্য একটা আনন্দের মুহূর্ত, গোটা বিজেপি শিবিরই খুশি। ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে, এবং রাজ্য সভাপতি হিসেবে আমি, আমাদের কর্মী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পুরো মন্ত্রিসভা এবং আমাদের সংগঠন—সকলেই এই তিনজনকে আন্তরিকভাবে ও আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানাচ্ছি।"
তৃণমূল ত্যাগের কারণ
প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহ আগেই এই তিন নেতা রাজ্যসভা এবং তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করার সময় প্রকাশ চিক বড়াইক বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের "মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই" তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আগে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, "সময়ই সব বলে দেবে" এবং সঠিক সময়ে তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত জানাবেন।
তিনি এও স্পষ্ট করে দেন যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপের জন্য তিনি সঠিক সময়ের অপেক্ষা করবেন।
সুস্মিতা দেবও গত মাসে রাজ্যসভা এবং তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি অসমে কাজ করতে চান এবং তাঁর এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে।
অন্যদিকে, সুখেন্দু শেখর রায় অভিযোগ করেছিলেন যে তৃণমূল সরকার "ব্যাপক ও লাগামছাড়া দুর্নীতি, মহিলাদের ওপর অত্যাচার, এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, আইন-শৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ব্যর্থ"।
বিধানসভা এবং সংসদে দলের অন্দরে বিদ্রোহের আবহে এই ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।


