উত্তর দিনাজপুরে তৃণমূল নেতার দাদাগারি ব্লক কৃষি আধিকারিককে মারট গোটা ঘটনা ধরা পড়েছে সিসিটিভি- তে  অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূল নেতার  

পরিচয়পত্র না দেখেই চেক বিলি করতে হবে। এমন আব্দার না মানায় ব্লক কৃষি আধিকারিককে মারধরের অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। এই ঘটনায় অভিযোগ পৌঁছেছে রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি বিষয়ক পরামর্শদাতা পর্যন্ত। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার অবশ্য দাবি, মারমুখী কৃষকদের হাত থেকে তিনিই ওই সরকারি আধিকারিককে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। 

শনিবার এই অভিযোগ সামনে এলেও ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ তারিখে। অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ মেনেই রায়গঞ্জে নিজের দফতরে বসে রাজ্য সরকারের কৃষক বন্ধু প্রকল্পের চেক বিলি করছিলেন রায়গঞ্জ ব্লকের অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনোলজি ম্যানেজার সন্দীপন সেনগুপ্ত। সরকারি নির্দেশ মেনে আসল পরিচয়পত্র দেখেই কৃষকদের হাতে চেক তুলে দিচ্ছিলেন ওই সরকারি কর্মী। সেই সময়ই সেখানে রায়গঞ্জ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি মানস ঘোষ এসে চড়াও হন। অভিযোগ, তিনি এসে দাবি করেন, আসল পরিচয়পত্র না দেখেই চেক বিলি করতে হবে। তাতে রাজি হননি সন্দীপনবাবু। এই নিয়েই দু' পক্ষে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়। এর মধ্য়েই মানস ঘোষ নামে ওই তৃণমূল নেতা সন্দীপনবাবুকে মারতে মারতে দফতরের বাইরে নিয়ে আসেন। সেই ছবি ধরা পড়ে যায় সিসিটিভি ফুটেজে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন-এর পক্ষ থেকে জেলাশাসক, কৃষি মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্য়মন্ত্রীর কৃষি বিষয়ক পরামর্শদাতা প্রদীপ মজুমদারের কাছে লিখিত অভিযোগ করে বিচার চাওয়া হয়েছে। 

অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার অবশ্য দাবি, ওই কৃষি আধারিক চেক দিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে কৃষকদের হয়রান করছিল। পরিচয়পত্রের প্রতিলিপি দেখালেও চেক পাচ্ছিলেন না কৃষকরা। বার বারই আসল পরিচয়পত্র দেখতে চাইছিলেন সন্দীপনবাবু। এমন কী, ওই আধিকারিক মুখ্যমন্ত্রীর নাম করেও তাঁর প্রতি অপমানজনক মন্তব্য করেন বলে দাবি করেছেন ওই তৃণমূল নেতা। তাঁর আরও দাবি, কৃষি আধিকারিকের আচরণে অন্যান্য কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে মারমুখী হয়ে ওঠেন। তাঁদের হাত থেকে বাঁচাতেই তিনি ওই আধিকারিককে টেনে দোতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি মানসবাবুর।