ভোটের মাঝখানেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন উত্তর চব্বিশ পরগনার তৃণমূলের জেলা সভাপতি এবং খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তাঁর দাবি, বাংলাদেশি সুপারি কিলারকে দিয়ে তাতে খুন করার চক্রান্ত করেছে বিজেপি। এই মর্মে ইতিমধ্যেই গোবরডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মন্ত্রী। ভোটের মধ্যে গুরুত্ব বাড়াতে তিনি এসব কথা বলছেন বলে পাল্টা দাবি করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। 

মন্ত্রীর দাবি, কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে তাঁর কাছে একটি ফোন আসার পরেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁর অভিযোগ, বারাসতের বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সহ সভাপতি দেবদাস মণ্ডল তাঁকে খুন করার চক্রান্ত করেছেন। অগ্রিম বাবদ সুপারি কিলারদের তিরিশ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন জ্যাতিপ্রিয়। কয়েকজন সুপারি কিলার অভিযুক্ত দেবদাসের আশ্রয়ে রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে লিখেছেন মন্ত্রী। দেবদাস মণ্ডল ছাড়াও বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, বনগাঁর বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর এবং তাঁর বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের নামেও অভিযোগ করেছেন জ্যোতিপ্রিয়। 

কিন্তু কেন তাঁকে খুন করতে চাইবে বিজেপি? মন্ত্রীর দাবি, "বনগাঁ ওরা পাবে না, ব্যারাকপুরেও সুবিধে করতে পারেনি। তাই আমি ওদের খুব মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি। ভাবছে আমায় সরিয়ে দিলে জেলার সব সিট পেয়ে যাবে। কিন্তু আমি মরলেও যে একটা আসনও পাবে না, সেটা ওরা জানে না। আমরা জেলায় পাঁচে পাঁচটাই পাব, সে আমি বেঁচে থাকি আর মরে যাই!" প্রসঙ্গত উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যে পাঁচটি লোকসভা কেন্দ্র পড়ে- বনগাঁ, বসিরহাট, ব্যারাকপুর, বারাসত এবং দমদম। এর মধ্যে বনগাঁ এবং ব্যারাকপুরে ভোট হয়ে গিয়েছে. বাকি তিন কেন্দ্রে আগামী ১৯ মে ভোটগ্রহণ। 

মন্ত্রী দাবি করেছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা যে ফোনের মাধ্যমে তিনি খুনের চক্রান্তের বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন, তার কল রেকর্ডিং তিনি আদালতে জমা দেবেন। আক্ষেপের সুরে অবশ্য জ্যোতিপ্রিয় বলেছেন, "এমন যে কেউ করতে পারে, আমি তো ভাবতেই পারছি না. আমার চরম শত্রুও ভাল থাকুক।" 

মন্ত্রীর এই মারাত্মক অভিযোগকে অবশ্য আমল দিতেই নারাজ বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, "জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলে কেউ একটা চড়ও মারবে না। কারণ তাঁর কোনও গুরুত্বই নেই। নামে মন্ত্রী, পা টিপে ধরে মন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। ভোটের ফল বেরোলে পার্টি থেকেই গলা ধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেবে। কেউ তাঁকে নেবে না। খুন হতে গেলেও যোগ্যতা লাগে। দিলীপ ঘোষকে খুন করার জন্য দশ-বারোবার হামলা হয়েছে, কারণ দিলীপ ঘোষ ওদের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ওদের পার্টির লোকও পাত্তা দেয় না, বিজেপি-ও পাত্তা দেয় না।" দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ভোটের পরে পদ, মন্ত্রিত্ব সব হারানোর আশঙ্কাতেই নিজের গুরুত্ব বাড়াতে খুনের চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।