রাজ্যে উপনির্বাচনে বিপুল জয় মানুষকে উৎর্সগ করেছেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু খড়গপুরে কি জ্যোতিষীর বিধান মেনেই বাজিমাত করল তৃণমূল?অন্তত তেমনটাই মনে করেন রেলশহরের বাসিন্দাদের অনেকেই। জ্যোতিষীর পরামর্শে গণনাকেন্দ্রের বাইরে রাতারাতি ক্য়াম্প অফিসের অবস্থান বদলে ফেলার কথা অস্বীকার করছেন না স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও।

আরও পড়ুন: সেনাপতি সেই শুভেন্দুই, পদ্মে নয়- ঘাসফুলে ভরসা রাখল রেলশহর

লোকসভা হোক কিংবা বিধানসভা, খড়গপুর মহকুমার ভোট গণনা হয় শহরের ২ নম্বর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে। ফল ঘোষণা স্কুলের বাইরে ক্যাম্পে বসেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা।  স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিবারই কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের দক্ষিণ দিকে খড়গপুর পুরসভার সামনে তৃণমূলের ক্যাম্প হয়।  কিন্তু এবার তেমন হয়নি। বুধবার রাতে হঠাৎ তৃণমূল নেতারা ক্য়াম্পটি গণনাকেন্দ্রে দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে সরিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।  আর তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে রেলশহরে। 

আরও পড়ুন: রাজ্য সভাপতির কেন্দ্রে ধরাশায়ী পদ্ম, প্রথমবার দখল নিল শাসক দল

তৃণমূলের অন্দরের খবর, গত লোকসভা ভোটে সময় খড়গপুরে শহরে গণনাকেন্দ্রের দক্ষিণ দিকে দলে ক্যাম্প অফিসে বসেছিলেন মেদিনীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া।  ভোটে পরাজয়ের খবর পেয়ে দক্ষিণ দিকের ওই ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে যান তিনি। জানা গিয়েছে, এবারের উপনির্বাচনের আগে এক জ্যোতিষী নাকি তৃণমূল নেতাদের বলেছিলেন, বাস্তুমতে দক্ষিণ দিকে যমের দুয়ার। তাই ভোটে ভালো ফল করতে গেলে গণনাকেন্দ্রের বাইরে ক্যাম্পের অবস্থান বদলে ফেলতে হবে! আর ভোটে জিততে তৃণমূল নেতারা এতটাই মরিয়া ছিলেন যে, জ্যোতিষীর পরামর্শ ফেলতে পারেননি তাঁরা।  তাই বুধবার রাতে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিসটি গণনাকেন্দ্রের দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে  যখন গণনা চলছিল,তখন গণনাকেন্দ্রের উত্তর দিকে ক্যাম্পেই বসেছিলেন তৃণমূল কর্মীরা। এবং পঞ্চম গণনার শেষ হওয়ার পর এগিয়ে যান শাসকদলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার। শেষপর্যন্ত জিতেও যান।