আর পদ্মে নয়, ঘাসফুলেই ভরসা করল রেলশহর খড়্গপুর ৷ দিলীপ ঘোষের গতবারের ব্যাবধানকে ছাপিয়ে এই প্রথম খড়্গপুর সদর বিধানসভাতে স্থান পেল তৃণমূল ৷ চাচা-র হাত থেকে বিজেপির ছিনিয়ে নেওয়া আসনকে ফের ছিনিয়ে নিল তৃণমূল ৷ 

উপনির্বাচনে সবুজ ঝড়, করিমপুরেও হারল বিজেপি

বৃহস্পতিবার বেলা বাড়তেই শহর জুড়ে সবুজ আবিরের খেলা প্রতি প্রান্তে ৷ নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিল ২০ হাজার ৭৮৮ ভোটে জয়লাভ করেছেন তৃণমূলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার ৷ বিজেপি ও কংগ্রেস প্রার্থীর ব্যাখ্যা - প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ও টাকার খেলায় হেরেছি ৷ ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় কয়েক দশক ধরে দখলে রাখা খড়্গপুর সদর বিধানসভাকে জ্ঞানসিং সোহন পাল তথা চাচা-র হাত থেকে দখল করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ৷ মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়ে  ৬৩০৯ ভোটের ব্যাবধানে জয়লাভ করেছিলেন তিনি ৷ সেদিন তৃণমূলের প্রার্থী পেয়েছিলেন ৩৪০৮৬ ভোট ৷ 

এরপর ২০১৯-এর  লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর লোকসভাতে বিজেপি জয়লাভ করলে সেখানেও খড়্গপুর সদর বিধানসভার হিসেবে ৩৫৬০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন তৃণমূলের প্রার্থীর থেকে ৷  কিন্তু তারপর থেকেই রাজনৈতিক চাল শুরু করেছিল তৃণমূল ৷ শুভেন্দু অধিকারী উত্তরদিনাজপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে রণকৌশল সাজান ৷ খড়্গপুরের জন্যই ৫২ জন পর্যবেক্ষক নিয়ে কাজ শুরু করেন ৷ 

দিলীপের মুখ দেখে খড়গপুরের ভবিষ্যৎ বলেছিলেন এই 'জ্য়োতিষী'

অন্যদিকে,উপনির্বাচনের একমাস আগে থেকেই টিম পিকে কাজ শুরু করে ভিতরে ভিতরে ৷ দলের লুকিয়ে থাকা অভ্যন্তরীন কোন্দল মেরামত করে মানুষের সঙ্গে নেতাদের গ্যাপ মিটিয়েছেন টিম পিকে-র কর্মীরা ৷ ফলস্বরূপ কুড়ি হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ ৷ জয়ের পরে তৃণমূলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার বলেন, এই জয় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উন্নয়ন, শুভেন্দু অধিকারীর পরিকল্পনা ও কর্মীদের পরিশ্রমের জয় ৷  এই জয় নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,মানুষের সম্মিলীত জয়৷ ৫ মাস ধরে কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম রয়েছে এর পেছনে ৷ 

অকর্মণ্য দিলীপ ঘোষেদের ঔদ্ধত্যকে মানুষ জবাব দিয়েছে ৷ দায়িত্ব বাড়ল, মানুষের আশা আকাঙ্খা পূরণ করতে হবে  ৷ আমি আমি নয়, আমরা আমরা করলে সব যুদ্ধ জয় করা যায় ৷ বিজেপির পরাজিত প্রার্থী প্রেমচাঁদ ঝা বলেন, প্রশাসনের মদতে তৃণমূলের প্রার্থী দশ কোটির বেশি টাকা খরচ করেছে ৷ সেই টাকার লড়াইয়ে হেরেছি আমরা ৷ রিগিং ও হয়েছে ৷ বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী চিত্ত মন্ডল বলেন- রিগিং নয়, মানুষের ভোটেই আমরা হেরেছি ৷ তবে টাকার খেলা হয়েছে ব্যাপক ভাবে ৷