Ritabrata Banerjee Meets ECI: পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর দাবি, দলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন, তাই তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। শীঘ্রই কমিশন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার পৌঁছল দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর শিবিরের নেতাদের নিয়ে কমিশনের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, দলের সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে তাঁরা তাঁদের দাবিদাওয়া কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন এবং আশা করছেন খুব শীঘ্রই কমিশন এই বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে।

কমিশনে ঋতব্রত-পন্থীরা
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, "আমরা কলকাতা এবং দিল্লি, দুই জায়গাতেই আমাদের বক্তব্য লিখিতভাবে জমা দিয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "২২ জুন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি বিশেষ অধিবেশন হয়েছিল। সেই অধিবেশনের পরেই আমরা নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে সবটা জানাই এবং কলকাতায় কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করি। তখন আমরা দিল্লির সদর দপ্তরেও দেখা করার জন্য সময় চেয়েছিলাম। আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনাররা খুব মন দিয়ে আমাদের কথা শুনেছেন। আমরা আমাদের সমস্ত যুক্তি তুলে ধরেছি। আশা করছি, কমিশন খুব শীঘ্রই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।"
'আমরাই আসল তৃণমূল': ঋতব্রত
দলের বেশিরভাগ নেতা-কর্মী যে তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন, সেই দাবি করে ঋতব্রত বলেন, "আমরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস, কারণ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আমাদের দিকে। বেশিরভাগ বিধায়ক, কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের সদস্যরা আমাদের সঙ্গে আছেন।" এদিন ঋতব্রতর নেতৃত্বে ১০ জনের এক প্রতিনিধি দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক বিবাদ নিয়ে আলোচনার জন্য নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে পৌঁছায়। ঋতব্রতর মতে, ২২ জুন কলকাতায় অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের যে প্রতিনিধি অধিবেশন হয়েছিল, সেখানেই তাঁদের গোষ্ঠী একজন নতুন চেয়ারপার্সন ও ডেপুটি চেয়ারপার্সন নির্বাচন করে এবং একটি নতুন জাতীয় কর্মসমিতি (NWC) গঠন করে। তিনি জানান, এই সাংগঠনিক পরিবর্তনের সমস্ত বিবরণ তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের পরই তৃণমূল ভেঙে খান খান
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলে যে ভাঙন ধরেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে দুই শিবিরই নিজেদের দাবি-পাল্টা দাবি করে চলেছে। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে আসেন দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন। এরপরেই দলের অন্দরে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়। এই বিদ্রোহী বিধায়করাই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন করেন এবং ৩০ সদস্যের একটি নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করেন।

