খোদ দিলীপ ঘোষের নির্বাচনী কেন্দ্রেই ধরাশায়ী গেরুয়াশিবির। আনন্দে আত্মহারা হয়ে খড়গপুরে বেলদায় বিজেপি-এর পার্টি অফিসে দলের পতাকা লাগিয়ে দিলেন তৃণমূল কর্মীরা!  কিন্তু জানানো সত্ত্বেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত বিজেপি কর্মীরাই তৃণমূলের পতাকাগুলি খুলে দেন বলে জানা গিয়েছে। 

পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর থেকে টানা দশবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন কংগ্রেসের জ্ঞান সিং সোহনপাল। রাজনৈতিক মহলে তিনি অবশ্য 'চাচা' নামেই পরিচিত ছিলেন। ২০১৬ সালে রেলশহরে জ্ঞান সিংহ সোহনপালকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। লোকসভা ভোটে ফের মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন তিনি । খড়গপুর থেকে লিড নিয়ে সাংসদও নির্বাচিত হন।  বিধানসভা উপনির্বাচনে কিন্তু আসনটি ধরে রাখতে পারল না বিজেপি। খড়গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রটি প্রথমবার এল তৃণমূলের দখলে।

আরও পড়ুন: টোটো চালাতে গেলেও লাগবে লাইসেন্স, ডিসেম্বর থেকেই নয়া নিয়ম

খড়গপুরের বেলদায় স্টেশনে কাছেই বিজেপি-এর পার্টি অফিস। উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর, বৃহস্পতিবার রাতেই সেই পার্টি অফিস থেকে বিজেপি পতাকা খুলে ফেলেন স্থানীয় তৃণমূলকর্মী। তেমনই অভিযোগ গেরুয়াশিবিরের। শুধু তাই নয়, বিজেপি পার্টি অফিসে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।  ঘটনাটি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু, কোনও লাভ হয়নি। শেষপর্যন্ত তাঁরাই দলের পার্টি অফিস থেকে তৃণমূলের পতাকাগুলি খুলে ফেলেন। যদিও বিজেপি পার্টি অফিস থেকে পতাকা খুলে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নারায়ণগড় ব্লকের সভাপতি মিহির চন্দ। 

এদিকে আবার উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর উত্তর ২৪ পরগনা ভাটপাড়াতেই বিজেপি-এর দুটি পার্টি অফিস তৃণমূল দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ। একটি পার্টি অফিস বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া পানপুর বাজার এলাকায়, আর অপরটি স্থানীয় বিদ্যাসাগর মাঠের কাছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অবশ্য দাবি, ওই দুটি পার্টি তাদেরই ছিল। জোর করে দখল করে নিয়েছিল বিজেপি।