পুলিশ বার বার নিষেধ করছে। নিষেধ না মেনে সমু্দ্রে নামার জন্য এমন কী পর্যটকদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও পর্যটকদের হুঁশ ফিরছে কই। দিঘার উত্তাল সমু্দ্রে ঝুঁকি নিয়ে স্নান করতে গিয়ে রবিবারও মৃত্যু হল এক পর্যটকের। মৃতের নাম অরূপ কুমার ঘোষ (২৯)।  তিনি উত্তর চব্বিশ পরগণার বাঁদু়ড়িয়ার বাসিন্দা। 

দিঘা থানার আইসি বাসুকীনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শুধুমাত্র জুন মাসেই নিয়ম ভেঙে সমুদ্রে স্নান করার জন্য একুশজন পর্যটককে তাঁরা গ্রেফতার করেছেন। উত্তাল সমু্দ্রে যাতে পর্যটকরা না নামেন, মদ্যপ অবস্থায় যাতে সমু্দ্রে কেউ না যান, মাইকের মাধ্যমে লাগাতার সেই সব প্রচারও করা হচ্ছে। তার উপর সমু্দ্র সৈকতে সারাদিনই প্রচুর পুলিশকর্মী, সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং নুলিয়ারা পর্যটকদের উপরে নজর রাখেন।  কিন্তু তার পরেও পুলিশের নজর এড়িয়ে ঠিক নিয়ম ভাঙছেন কিছু পর্যটক। আর তাতে ঘটে যাচ্ছে বিপদ। 

আরও পড়ুন- দিঘায় সমুদ্রস্নানে মগ্ন বাবা-মা, গাড়িতে আটক ছেলের প্রাণ ফেরাল পুলিশ

পুলিশ সূত্রে খবর, দিদি ,জামাইবাবুদের সঙ্গে রবিবার দিঘায় এসেছিলেন অরূপ। বিকেল চারটে নাগাদ সমু্দ্রে স্নান করতে নেমে হঠাৎই তলিয়ে যান তিনি। ওই সময় সমু্দ্র যথেষ্ট উত্তাল ছিল। তার পরেও ঝুঁকি নিয়ে সমু্দ্রে নামাতেই বিপত্তি ঘটেছে বলে অভিযোগ পুলিশের। সমু্দ্রে নামার পরে ওই যুবককে তলিয়ে যেতে দেখে অন্যান্য পর্যটকরা নুলিয়াদের সতর্ক করেন। সঙ্গে সঙ্গে নুলিয়ারা জলে নেমে অরূপকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা ওই যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। 

গত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়ার কারণে দিঘার সমুদ্র যথেষ্টই উত্তাল রয়েছে। সপ্তাহান্তে পর্যটকদের ভিড়ও কয়েকগুণ বেড়ে যায় দিঘায়। ফলে সবসময় ভিড়ে ঠাসা সৈকতে পুলিশকর্মীদের পক্ষে সব পর্যটকদের উপরে নজর রাখাও সম্ভব হয়না।