দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করায় কোহিনুর মজুমদার, ঋজু দত্ত এবং কার্তিক ঘোষকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন নিয়ে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বেসুরো সুর শোনা গিয়েছে একাধিক নেতা নেত্রীর মুখে। এবার সেই ক্ষোভ নিয়েই কড়া পথে হাঁটল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করায় কোহিনুর মজুমদার, ঋজু দত্ত এবং কার্তিক ঘোষকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন নিয়ে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বেসুরো সুর শোনা গিয়েছে একাধিক নেতা নেত্রীর মুখে। এবার সেই ক্ষোভ নিয়েই কড়া পথে হাঁটল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। দলবিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগে একযোগে ৫ জন মুখপাত্রকে প্রথমে শো-কজ করে তৃণমূল কংগ্রেস।

দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির তরফে ৫ মুখপাত্রকে শোকজ নোটিস পাঠান ডেরেক ও’ব্রায়েন। দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে না, তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে বলা হয় কোহিনূর মজুমদার, ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষকে। যথাযথ উত্তর না মেলায় ২৪ ঘণ্টা পর কোহিনূর মজুমদার, ঋজু দত্ত ও কার্তিক ঘোষকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। কোহিনূর-সহ তিনজনের কাছে সাসপেনশনের নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাসপেন্ড হওয়ার চিঠি পাওয়ার পরে ঋজু ফেসবুকে দাবি করেছেন যে জবাব দেওয়ার পরেও তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের পেছনে আমার তারুণ্যের ১৩টি বছর উৎসর্গ করার পর—নিজেকে প্রমাণ করতে অবিরাম পরিশ্রম করে, এবং শুধুমাত্র নিজের কাজের দক্ষতার জোরেই দলের বিভিন্ন স্তরে উঠে আসার পর (কারণ আমি কোনও 'নেপো-কিড' বা স্বজনপোষণ-পুষ্ট সন্তান নই)—আমার প্রিয় দলটি আমাকে ৬ বছরের জন্য 'সাসপেন্ড' করেছে! কেন? কারণ আমি সত্য কথা বলেছিলাম। সাসপেন্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, আমি নাকি শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সামনে উপস্থিত হইনি। অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই—আমি গত ৯ এপ্রিল সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে দলের সদর দফতরে (তৃণমূল ভবন) আমার লিখিত জবাব জমা দিয়েছিলাম। সম্ভবত আমার জবাবটি পড়ে দেখার আগেই ওই বিজ্ঞপ্তিটি টাইপ করা হয়েছিল। ধন্যবাদ, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস! আমি কথা দিচ্ছি, আমি ফিরে আসবই!! শীঘ্রই দেখা হবে!!'
সাসপেন্ড হওয়া কোহিনুর বলেন, “দীর্ঘ ২০ বছর এই দল করেছি। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম-পর্ব থেকে ছাত্র রাজনীতি করেছি। তারপরেও দল আমাকে রাখছে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অহংকারী, জমিদার নেতার নেতৃত্বে রাজনীতি করার বিশেষ ইচ্ছে এই দলের যে নেই তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। এবার দল আমাকে অফিসিয়ালি তাড়াল। আমি আর তৃণমূলের সদস্য নই। আগামীদিন কী করব ভাবা যাবে। তবে, ধীরে ধীরে তৃণমূল আর সাসপেন্ড করার লোক খুঁজে পাবে না।”
