Asianet News BanglaAsianet News Bangla

মেডিক্যাল পরীক্ষায় গৃহশিক্ষকের ছেলের হ্যাটট্রিক, দরিদ্রতা জয় করে ৫৮৫ নম্বর মালদহের ছাত্রের

  • বাবা পেশায় গৃহশিক্ষক, বাড়িতে গিয়ে টিউশন দেন
  • পরিবারের খরচের জন্য মাঠে ধান কাটতে যেত মা
  • সেই হতদরিদ্র পরিবারে বাজিমাত কর ছাত্র
  • মেডিক্য়াল পরীক্ষায় ৫৮৫ নম্বর পেয়ে নজির তুলকালামের
Tuition teacher son success in NEET at malda ASB
Author
Kolkata, First Published Oct 20, 2020, 11:30 AM IST

বাবা পেশায় গৃহ শিক্ষক। অন্যের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে টিউশন পড়ান। মা গৃহবধূ। কিন্তু সংসারের খরচ তুলতে তাঁকেও মাঠ ধান কাটতে যেতে হয়। অভাব-অনটন যেন চিরন্তন সঙ্গী পরিবারে। তবুও দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে মেডিক্যালের পরীক্ষায় বাজিমাত করলেন মালদহের এক ছাত্র। নিট পরীক্ষায় সে ৫৮৫ নম্বর পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন-এই প্রথমবার, প্রাত্যহিক জীবনের ব্যবহৃত জিনিসের জন্য বেহালায় চালু নেচার বাজার

বাবা আবিল কালাম। পেশায় গৃহ শিক্ষক। এবারের মেডিক্য়াল পরীক্ষায় ৫৮৫ নম্বর পেয়েছে তাঁর ছেলে তুলকালাম। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের ১ নম্বর ব্লকের তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাড়িয়াল গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৬ সালে তুলসীহাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক এবং ২০১৮ সালে মালদা মহেশমাটি ডিএন সাহা বিদ্যাভবন থেকে ৮৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছিল তুলকালাম। তারপর, মালদা আল আমিন মিশন অ্যাকাডেমিতে পড়াশুনা করে সর্বভারতীয় মেডিক্যাল পরীক্ষায় বসে বাজিমাত করল সে।

আরও পড়ুন-বিজেপির লক্ষ্য বিধানসভা নির্বাচন, শিলিগুড়িতে শাসক দলকে কড়া হুঁশিয়ারি জেপি নাড্ডার

মেডিক্যালের ছাত্র তুলকালাম সহ তাঁর পরিবারে আরও দুই ভাই রয়েছে। বাবার গৃহ শিক্ষকতায় সেভাবে আর্থিক সমস্যা মিটত না। সংসার চালাতে মাকে বাড়ির কাজের পাশাপাশি অন্যের জমিতে ধান কাটতে যেতে হত। সফলতার জন্য শুধু পড়াশুনা করাই তুলকালামের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল না। লড়াই করতে হত দারিদ্রতার সঙ্গেও। তার ঘর এতটাই ছোট যে আলাদাভাবে পড়াশুনা করার জন্য কোনও ব্যবস্থা ছিল না। বাড়ির জমি জায়গা বলতে কিছু নেই। পরিবারের অন্যদের সঙ্গে বসে পড়াশুনা চালিয়ে গিয়েছে সে।বাড়ির বড় ছেলে তুলকালাম।  তাই তাঁকে সংসারের খরচ তুলতে কাজও করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন-৬ মাসের মধ্যে বাংলায় সরকার গঠন বিজেপির, শিলিগুড়িতে দাবি সায়ন্তন বসুর

তুলকালামের সাফল্যে খুশি গ্রামবাসী থেকে শিক্ষকরা। ছেলের এই আনন্দের মাঝেও বাবা-মায়ের মুখ ভার। ছেলে তো বড় সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু মেডিক্যালের পড়াশুনার জন্য খরচ  জোগাবে কোথা থেকে? চিন্তায় ঘুম উড়েছে বাবা-মায়ের। যদিও, তুলকালামের সাফল্যে তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মালদহ জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বলবুল খান।

Follow Us:
Download App:
  • android
  • ios