এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মেধা তালিকা প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু তাতে কি! প্রাপ্ত নম্বরের নিরিখে একজন দ্বিতীয় স্থানাধিকারী, আর একজন তৃতীয়। পিসি-ভাইঝির সাফল্যে গর্বিত গোটা গ্রাম।

আরও পড়ুন: করোনা আতঙ্কে নয়া দিশা, এবার আদালতে শিবির করে লালারস সংগ্রহ স্বাস্থ্যদপ্তরের

বাঁকুড়ার ওন্দা থানা এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম বহড়ামুড়ি। এই গ্রামেরই বাসিন্দা রিয়া দত্ত ও শিল্পা দত্ত। সম্পর্কে তারা পিসি-ভাইঝি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো নয় কারওই। হতদরিদ্র বলা চলে। প্রাথমিক স্কুল থেকে একসঙ্গে পড়াশোনা করছে রিয়া ও শিল্পা। মাধ্যমিকেও যথেষ্ট ভালো করেছিল তারা। এরপর দু'জনেই ভর্তি হয় ওন্দা হাইস্কুলে, কলাবিভাগে। উচ্চমাধ্যমিক চারশো আটানব্বই নম্বর পেয়েছে রিয়া। পিসির থেকে এক নম্বর কম পেয়েছে শিল্পা। তার প্রাপ্ত নম্বর চারশো সাতানব্বই।

রিয়ার বাবা পেশায় দিনমজুর। সামান্য জমিও আছে তাঁর। মা ছাপোষা গৃহবধূ। অভাবের সংসার নুন আনতে পান্তা ফুরানো দশ। তবুও হাল ছাড়েনি মেয়ে। প্রাথমিক স্কুল থেকে শিক্ষকদের সহায়তায় নিজেকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে সে। মাধ্যমিকেও পর এবার উচ্চমাধ্যমিকে দারুন রেজাল্ট করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে মেধাবী পড়ুয়াটি। আর শিল্পা? তার লড়াইটা ছিল আরও কঠিন। চতুর্থ শ্রেণীর পড়ার সময়ে মা মারা যান। বাবা, দাদা আর ঠাকুমার সংসারে শিল্পা বেড়ে উঠেছে। বাবা পেশায় দিনমজুর, আর দাদা একটি বেসরকারি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী শিল্পা।  

আরও পড়ুন: আসানসোলে শুটআউট, রাস্তায় মিলল ঠিকাদারের রক্তাক্ত দেহ

সম্পর্কে পিসি-ভাইঝি হলেও, বোন ভাবেন অনেকেই। যাবতীয় প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বিষয় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শিল্পা ও রিয়া। ভবিষ্যতে অধ্যাপক হতে চায় দু'জনেই। পছন্দের বিষয়ও এক, ইংরেজি।