গ্রামে থাকলে হলে বিজেপি করতে হবে। ফতোয়া মানতে না চাওয়ায় খোদ তৃণমূলের দুই কর্মীকে দীর্ঘক্ষণ গাছে বেঁধে মারধর করলেন বিজেপি কর্মীরা! অভিযোগ তেমনই। মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া।

পুরুলিয়ায় তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্য থাবা বসিয়েছে বিজেপি।  ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটে ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের রিগিদ পঞ্চায়েতটি হাতছাড়া হয় শাসকদলের। সিপিএমের সঙ্গে জোট করে পঞ্চায়েতের দখল নেয় গেরুয়াশিবির। শুধু তাই নয়, ভোটের পর স্থানীয় মানুষদের সিংহভাগই যোগ দেন বিজেপিতে। কিন্তু দল ছাড়েননি তৃণমূলকর্মী জলেশ্বর মাহাতো। রিগিদ পঞ্চায়েতের হরতান গ্রামে থাকেন তিনি। অভিযোগ, তাঁর দুই ভাইকে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চাপ দেওয়া হচ্ছিল, ফতোয়া জারি করা হয়েছিল গ্রামে। সেই ফতোয়া না মানারই মাশুল দিতে হল তৃণমূলকর্মীর দুই ভাইকে।
জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে হরতান গ্রামে একটি গাছের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখা হয় ওই দুই যুবককে। মারধরও করা হয় তাঁদের। খবর পেয়ে সিভিক ভলান্টিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামে যান জলেশ্বর এবং দুই ভাইকে উদ্ধার করেন। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় কোটশিলা হাসপাতালে।  

আরও পড়ুন:বিক্ষোভকারীদের গুলি করে মারার নিদান দিয়ে এবার নিউইয়র্ক টাইমসের পাতায় 'উজ্জ্বল' দিলীপ

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল ঠিকই।  তবে এমন ঘটনা যে ঘটবে, তা ভাবতেই পারেননি তৃণমূলকর্মী জলেশ্বর মাহাত। তাঁর বক্তব্য,'অন্য পাড়ায় দু'ঘর  থাকলেও, আমাদের গ্রামে  আমরা ছাড়া কেউই তৃণমূল কংগ্রেস করে না। টিএমসি পার্টিকে ভালো লাগে। যতদিন বাঁচব, টিএমসিই করব।' ঘটনার পর শাসকদলের শাসকদলের স্থানীয় নেতা-নেত্রীদের জলেশ্বর ফোনও করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু সাহায্য় মেলেনি, ওই তৃণমূলকর্মীকে তাঁরা থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানা গিয়েছে।

কী বলছে তৃণমূল কংগ্রেসের পুরুলিয়া জেলার নেতৃত্ব? দলের জেলা সভাপতি ও মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো-র প্রতিক্রিয়া, 'ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।' আর দলের সাধারণ সম্পাদক নবেন্দু মাহালি-র বক্তব্য, একটি গ্রাম্য বিবাদকে কেন্দ্র করে ঝামেলা হয়েছে। তৃণমূল করার অপরাধে দু'জনকে বেঁধে রাখে বিজেপি কর্মীরা।  স্থানীয় কোটশিলা থানায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।