২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের যে পরিসংখ্যান উঠে আসছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করে দিয়েছে। রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথমবার ভোটের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তবে আসল 'খেলা'টি জমে উঠেছে সেই ৮৫টি আসনে, যেগুলিকে সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত বলে মনে করা হয়।
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের যে পরিসংখ্যান উঠে আসছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অবাক করে দিয়েছে। রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথমবার ভোটের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। তবে আসল 'খেলা'টি জমে উঠেছে সেই ৮৫টি আসনে, যেগুলিকে সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত বলে মনে করা হয়। এই মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ভোটার উপস্থিতির হারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যার পরিমাণ ২ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। এই ৮৫টি আসন এমন সব জেলায় অবস্থিত যেখানে মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশেরও বেশি মুসলিম। দশকের পর দশক ধরে এই অঞ্চলে কংগ্রেস এবং বামপন্থীদেরই একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। তবে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এই ৮৫টি আসনের মধ্যে ৭৫টিতেই জয়লাভ করে; যা তাদের পক্ষে সংখ্যালঘু ভোটের সুসংহত হওয়ারই ইঙ্গিত বহন করে। কংগ্রেস ও বামপন্থীরা কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, অন্যদিকে বিজেপিই একমাত্র শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে অবশিষ্ট আসনগুলোর অধিকাংশেই জয়ী হয়।
মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে ভোটের হার বেড়েছে ২০.৫ শতাংশ
মুর্শিদাবাদ, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর—এই জেলাগুলিতে ভোটারদের বিপুল সমাগম দেখে এখন জোর জল্পনা চলছে যে, বাংলার ক্ষমতার চাবিকাঠি শেষমেশ কার হাতে থাকবে। মুর্শিদাবাদ জেলায়, যেখানে মুসলিম জনসংখ্যা ৬৬ শতাংশেরও বেশি, সেখানে ভোটারদের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। রঘুনাথগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২১ সালের তুলনায় ভোটের হার বিশালভাবে বৃদ্ধি পেয়েছ—যা ২০.৫ শতাংশ। জঙ্গিপুরে ভোটের হার বেড়েছে ১৭.৯ শতাংশ, সাগরদিঘিতে ১৬.৪ শতাংশ, সামশেরগঞ্জে ১৬ শতাংশ এবং সুতিতে ১৪.৫ শতাংশ। এই জেলার ২২টি আসনেই ভোটারদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কংগ্রেসের পুরনো গড়গুলিতেও চাঞ্চল্য
মালদা এবং উত্তর দিনাজপুর—যে জেলাগুলিকে দীর্ঘকাল ধরে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে গণ্য করা হয়—সেখানে এবারের লড়াইটি ত্রিমুখী। কারণ, দীর্ঘ সময় পর কংগ্রেস এবার একাই নির্বাচনে লড়ছে। মালদার রতুয়ায় ভোটের হার বেড়েছে ১৬.২ শতাংশ, চাঁচলে ১৫.৩ শতাংশ এবং মালতিপুরে ১৪.৭ শতাংশ। এই জেলাগুলিতে কোনও আসনেই ভোটের হার দুই অঙ্কের নীচে নামেনি। উত্তর দিনাজপুরের গোলপোখরে ভোটের হার বেড়েছে ১৯.৭ শতাংশ, যা এই সমগ্র নির্বাচনী বলয়ের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া চাকুলিয়া এবং ইসলামপুরেও ভোটের হার ১৩ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া সত্ত্বেও, বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোট দিতে উপস্থিত হয়েছিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে, নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) অভিযানের অংশ হিসেবে এই জেলাগুলোর ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। মুর্শিদাবাদে ৪,৫৫,১৩৭টি এবং মালদায় ২,৩৯,৩৭৫টি নাম বাদ পড়া সত্ত্বেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এটি নির্দেশ করে যে, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন।
