ভোট গণনার ঠিক একদিন আগে বিভিন্ন স্থানে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে বিধাননগর কলেজের স্ট্রং রুমে। এলাকা জুড়ে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ভোট গণনার ঠিক একদিন আগে বিভিন্ন স্থানে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে বিধাননগর কলেজের স্ট্রং রুমে। এলাকা জুড়ে বর্তমানে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে দুই দলের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বচসার জেরে স্ট্রং রুমের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় স্লোগানবাজি। কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং তা এক বড় সংঘাতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছয়। পুলিশ মাইকের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে, ব্যারিকেড দিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের আলাদা করে দেওয়া হয়।
বিধাননগর কলেজের তিনটি বিধানসভার স্ট্রংরুম রয়েছে। বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুমের বাইরে ক্যাম্প অফিসের টেন্ট বসানো ঘিরে শনিবার গভীর রাতে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, তাদের তৈরি করা ক্যাম্পে তৃণমূল কর্মীরা দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেয়, যার জেরে শুরু হয় বচসা। পরে তা হাতাহাতিতে পৌঁছয়। রাজারহাট নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযুশ কানোরিয়ার সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের রীতিমত হাতাহাতি পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করেছে। ঘটনায় দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, র্যাফকে নামতে হয় সেখানে। এই ঘটনা নিয়ে কমিশনে অভিযোগ দায়ের করতে চলেছে দু’পক্ষই। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গণনা কেন্দ্রগুলোতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিজয় মিছিলে নিষেধাজ্ঞা
প্রশাসন ইতিমধ্যেই পূর্ব মেদিনীপুরের চারটি গণনা কেন্দ্রকে 'নো-ফ্লাই জোন' হিসেবে ঘোষণা করেছে। ওই এলাকাগুলোতে বাজি ফাটানো এবং বিজয় মিছিল বের করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গণনা কেন্দ্রগুলোর আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পুলিশ সমগ্র জেলা জুড়ে মাইকের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রচার চালাচ্ছে। এদিকে, স্ট্রং রুম এবং ভোট গণনা সংক্রান্ত যে কোনও বিবাদ এড়াতে মালদার জেলাশাসক শনিবার একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন। বৈঠকে প্রার্থীদের গণনা কেন্দ্র এবং স্ট্রং রুমগুলো পরিদর্শন করানো হয়। কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মালদা কলেজ এবং মালদা পলিটেকনিক কলেজে গণনা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আগামী সোমবার, ৪ মে—এই দুটি কেন্দ্রেই জেলার ১২টি বিধানসভা আসনের ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে।


