খড়্গপুর পৌরসভা এলাকার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী হিরণ। আর আজ মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সময় তাঁর দেখা হয় তৃণমূলের প্রার্থী জহর পালের সঙ্গে। সে সময় সবার সামনে জহর পালের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ চান তিনি।

রোম্যান্টিক হিরো (Romantic Hero) হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee)। তবে হিরো ছাড়াও রাজনীতিতেও বেশ পরিচিতি রয়েছে তাঁর। তিনি হলেন খড়্গপুরের (Kharagpur) বিজেপির বিধায়ক। অবশ্য রাজনীতিতে নামলেও স্বভাবসুলভ মিষ্টি ব্যবহার দিয়ে অনেকেরই মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। এমনকী, বিরোধীদেরও মন জয় করার কৌশল ভালো করেই জানেন তিনি। কিন্তু, তা হলেও রাজনৈতিক কারণে তাঁর সঙ্গে দূরত্ব তো রয়েছেই শাসকদল তৃণমূলের (TMC) অনুগামীদের। এবার সেই হিরণের বিরল সৌজন্যের ছবি দেখল খড়্গপুর। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

তৃণমূল প্রার্থীকে প্রণাম
খড়্গপুর পৌরসভা এলাকার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী (BJP Candidate) হিরণ। আর আজ মনোনয়ন (Nomination) জমা দিতে যাওয়ার সময় তাঁর দেখা হয় তৃণমূলের প্রার্থী তথা প্রবীণ তৃণমূল নেতা জহর পালের সঙ্গে। সে সময় কোনও সংকোচবোধ না করেই সবার সামনে জহর পালের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ চান তিনি। তাঁকে আশীর্বাদ করেন জহর পালও। 

আরও পড়ুন- একাধিক ওয়ার্ড বিরোধী শূন্য, নির্বাচনের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাঁইথিয়া পুরসভা দখল তৃণমূলের

মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
খড়্গপুর বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবারে খরগপুর পৌরসভা এলাকার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিযোগিতায় নামছেন। নিয়ম মেনে দলের নির্দেশে তিনি খড়্গপুর শহরের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছেন ইতিমধ্যেই। আর ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী (TMC Candidate) হলেন জহর পাল। উভয়েই মনোনয়ন প্রক্রিয়ার শেষ দিনে মনোনয়ন জমা দিতে খড়্গপুর মহকুমা শাসকের অফিসের সামনে হাজির হয়েছিলেন। তখনই প্রতিপক্ষের তৃণমূল নেতা জহর পালকে সামনে পেয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেন হিরণ। বিরল এই দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে রইলেন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। 

আরও পড়ুন- নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলে বিপত্তি, আটক বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা

তৃণমূল প্রার্থীর বক্তব্য
তবে এই ঘটনার পর হিরণ সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। যদিও জহর পাল বলেন, "সৃষ্টিকর্তা সব ঠিক করে রেখেছেন, বিধান ঠিক হয়ে যাবে। শুধু ফল প্রকাশের অপেক্ষা মাত্র। আমার আশীর্বাদ বা অভিশাপে কিছু এসে যাবে না। এ যুদ্ধে জনগণের আশীর্বাদ শেষ কথা।"

আরও পড়ুন- 'শিলিগুড়িতে দিদিই থাক', 'পুরনো বিজেপির' পোস্টার ঘিরে বিতর্ক

নায়কদের এই ধরনের সৌজন্যের ছবি এর আগেও দেখা গিয়েছিল মেদিনীপুরে। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে ঘাটালের সাংসদ দেব তাঁর প্রতিপক্ষে থাকা সিপিআই এর প্রার্থী সন্তোষ রানার বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে সন্তোষ রানার আশীর্বাদ নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কাছে আশীর্বাদ নিয়েই তাঁর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছিলেন সাংসদ দেব। এমনকী, শেষ পর্যন্ত সন্তোষ রানাকে হারিয়ে ছিলেন তিনি।