WB Police Job: মনের জোরের কাছে দারিদ্র-অভাব অনটন যে কোনও কিছুই নয়। তা ফের প্রমাণ করলেন ময়নাগুড়ির তিন ভাইবোন। প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে একসঙ্গে একই পরিবারের তিনভাইবোন পেলেন সরকারি চাকরি। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।

WB Police Job: ভাঙা ঘর, দিনমজুর বাবার সংসার! সেই ঘর থেকেই একসঙ্গে রাজ্য পুলিশের চাকরিতে তিন ভাইবোন! ময়নাগুড়ির অবিনাশ, কমলেশ ও পম্পার লড়াই যেন এক জীবন্ত রূপকথা

অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী। কখনও দু’বেলা খাবার জুটবে কি না, সেই চিন্তা। কখনও সংসারের টানাপোড়েনে থমকে যেত পড়াশোনা। মাথার উপর ছিল না স্বচ্ছলতার ছাদ, ছিল না দামি কোচিংয়ের সুযোগ। ছিল শুধু একচিলতে ভাঙাচোরা ঘর, দিনমজুর বাবার সামান্য রোজগার, মায়ের নিরন্তর পরিশ্রম আর তিন ভাইবোনের চোখে একটাই স্বপ্ন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো।সেই স্বপ্নই এবার বাস্তবের মাটিতে পা রাখল।

দারিদ্র্য আর অভাবের অন্ধকারকে পিছনে ফেলে একসঙ্গে সাফল্যের দরজায় পৌঁছে গেল জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির উত্তর মাধবডাঙ্গার একই পরিবারের তিন ভাইবোন অবিনাশ রায়, কমলেশ রায় ও পম্পা রায়। ২০২৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার মেধা তালিকায় তিনজনের নাম একসঙ্গে জায়গা করে নেওয়ার ঘটনায় কার্যত তাক লেগে গিয়েছে গোটা এলাকায়।

একই পরিবারের তিন ভাইবোন পুলিশের চাকরি পেলেন একসঙ্গে:-

সাত সদস্যের পরিবার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ভরসা বাবা জিতেন রায়, পেশায় দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ মিলবে কি না, কত টাকা হাতে আসবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। মা-ও সংসারের কাজ সামলে নিরন্তর পরিশ্রম করে গিয়েছেন। এমন একটি পরিবারে চার ছেলেমেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অভাব তাঁদের স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারেনি।

বড় ছেলে অবিনাশ রায় ভূগোল অনার্স নিয়ে এমএ পাশ করেছেন। বোন পম্পা রায় ইংরেজি অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। আর মেজ ছেলে কমলেশ রায়-এর লড়াইটা ছিল আরও কঠিন। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কথা ভেবে তাঁকে পড়াশোনার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজেও নামতে হয়েছিল। সংসারের পাশে দাঁড়াতে হাতে তুলে নিয়েছিলেন শ্রমের সরঞ্জাম। তবুও বুকের ভিতর থেকে মুছে যায়নি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন।

দিনে কাজ, আর সুযোগ পেলেই পড়াশোনা এভাবেই চলেছে তাঁর লড়াই। পরে ফের পড়াশোনায় মন দেন। ভাই-বোনদের সঙ্গে একসঙ্গে পুলিশের চাকরির প্রস্তুতিও শুরু করেন। তিনজনের লক্ষ্য এক, লড়াই এক, আর শেষ পর্যন্ত সাফল্যও এল একসঙ্গেই।আজ সেই পরিবারের ঘরেই যেন অন্যরকম আনন্দ। যে সংসারে একসময় নুন-ভাতের হিসাব কষতে হতো, সেই ঘরেই এখন সাফল্যের খবর। প্রতিবেশীদের অভিনন্দন, পরিবারের চোখে জল, আর বাবা-মায়ের মুখে গর্বের হাসি সব মিলিয়ে উত্তর মাধবডাঙ্গার সেই ছোট্ট ঘরটি যেন মুহূর্তেই হয়ে উঠেছে স্বপ্নপূরণের ঠিকানা।

অবিনাশ, কমলেশ ও পম্পার এই সাফল্য শুধু একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়। এটি অভাবের সঙ্গে লড়াই করে স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প।এটি সেই বাবা-মায়ের গল্প, যাঁরা নিজেদের কষ্ট আড়াল করে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। আর এটি তিন ভাইবোনের গল্প, যারা প্রমাণ করে দিল সুযোগ কম থাকলেই স্বপ্ন ছোট হয়ে যায় না।ময়নাগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রামের এক ভাঙাচোরা ঘর থেকে তিন ভাইবোনের একসঙ্গে পুলিশের চাকরিতে সুযোগ পাওয়া তাই আজ শুধু পরিবারের সাফল্য নয়, গোটা এলাকার কাছেই এক অনুপ্রেরণার গল্প। দারিদ্র্য তাঁদের পথ আটকে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু থামাতে পারেনি।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।