West Bengal Election 2026: বিধানসভা নির্বাচনে টালিগঞ্জ আসন থেকে লড়ছেন সিপিএম প্রার্থী তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থ প্রতিম বিশ্বাস। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কী জানালেন বাম প্রার্থী? প্রসঙ্গত, এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা বিদায়ী ক্যাবিনেট মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস এবং বিজেপির হয়ে লড়ছেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী।

West Bengal Election 2026: ভোট প্রচার একেবারে মধ্যগগনে (election 2026 west bengal)। চূড়ান্ত ব্যস্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। কার্যত, নির্বাচনী পরিক্রমার সঙ্গেই চলছে একের পর এক জনসভা এবং মিটিং। আর দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম হেভিওয়েট বিধানসভা কেন্দ্র হচ্ছে টালিগঞ্জ। একটা সময়, এই গোটা এলাকায় লাল ঝান্ডার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সময় বদলেছে। কিন্তু লড়াই ছাড়েননি বাম কর্মীরা (cpim tollygunge candidate 2026)। আবারও হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া সিপিএম। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই আসন থেকে লড়ছেন সিপিএম প্রার্থী তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পার্থ প্রতিম বিশ্বাস। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কী জানালেন বাম প্রার্থী?

টালিগঞ্জের মানুষ 'বিশ্বাস' রাখবেন পার্থ প্রতিমে?

এশিয়ানেট নিউজ বাংলাকে পার্থ প্রতিম বিশ্বাস বলছেন, “শুধু টালিগঞ্জ নয়। গোটা রাজ্যের মানুষই বিশ্বাস করে একটা সময় তৃণমূলকে ক্ষমতায় নিয়ে আসেন। আজকে সেই মানুষরাই ১৫ বছর পর, এই সরকারের থেকে পরিত্রাণ চাইছে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। আর টালিগঞ্জ তাই বাইরে নয়। মানুষ এই সরকারকে পাল্টে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। অবশ্যই এবারের পরিবর্তন বামেদের হাত ধরেই হবে। আসলে যেটাকে প্রত্যাবর্তন বলা যায়। আমরা সেইরকমই একটা যুগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। ফলে, টালিগঞ্জেও লড়াই হবে।" 

তাঁর কথায়, “তৃণমূল কতটা খারাপ, সেটা মানুষকে বোঝাতে আর বেশি সময় খরচ করতে হচ্ছে না। অটো-বাসে-ট্রামে, একটাই কথা লোকের মুখে। কিন্তু সেই পরিবর্তন কাদের হাত ধরে হবে? হ্যাঁ, এই কথা ঠিক যে, বাংলার মানুষ বিজেপিকে বিরোধী দল বানিয়েছিল। কিন্তু গত ৫ বছর ধরে তারা যদি সত্যিই বিরোধী দলের সঠিক ভূমিকা পালন করত, তাহলে রাজ্যের মানুষকে এতো দুর্দশার মধ্যে দিয়ে যেতে হত না। আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীরা দুর্নীতির ক্ষেত্রে অল-টাইম রেকর্ড গড়েছেন। শিক্ষা থেকে শুরু করে শিল্প, পরিকাঠামো, খাদান, কয়লা, গরু, রেশন, আবাসন, চিটফান্ড! কিছুই বাদ যায়নি। কার্যত, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি। অন্যায়-অপরাধ করেও কলার তুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে সব। এটা একমাত্র করতে পারছে কারণ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দ্বারা সঠিকভাবে তদন্ত এগোচ্ছে না। ফলে, বিচার এখনও অধরা।" 

তৃণমূল এবং বিজেপিকে একযোগে নিশানা করলেন টালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী 

এরপরেই বিজেপিকে নিশানা করে সিপিএম প্রার্থী জানান, “ভোটের আগে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা ভরসা করতে বলছেন। কীসের ভরসা? তারা আপোষের পথ নিয়েছেন। এটাকেই বলা হয় তৃণমূল-বিজেপি সেটিং। আর এমন একজন প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে লড়ছি, যিনি বাংলার ইমোশনকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। বাংলার মানুষের প্রিয় ফুটবল, সেটা নিয়েও একটা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হল। মেসির মতো একজন ফুটবলার বাংলায় এলেন, কিন্তু কী পরিস্থিতি সেইদিন যুবভারতীতে তৈরি হল তা আমরা দেখেছি। বাংলার গর্ব লজ্জায় পরিণত হল। তাও আবার স্বয়ং ক্রীড়ামন্ত্রীর উপস্থিতিতে। এই লজ্জার ঘটনার নায়ক-নায়িকা কারা, সেটা আর আলাদাভাবে বলতে হবেনা। এই ঘটনার দায় টালিগঞ্জ থেকে জেতা বিধায়ক তথা ক্রীড়ামন্ত্রীর। তৃণমূল বলে খেলা হবে! এবার মানুষ সুযোগ পেলে গোল দেবে।" 

বাম প্রার্থীর মতে, "এই কথা সত্যি যে, ২০১১ সালে আমাদের একটা বড় অংশের ভোট তৃণমূলে গেছিল এবং পরবর্তী সময়ে আবার তৃণমূল বিরোধিতার জায়গা থেকে একটা বড় অংশের বাম ভোট বিজেপির দিকে চলে যায়। কিন্তু মানুষের ভুল ভেঙেছে। আর টালিগঞ্জের মানুষ আরও ভালো করে বুঝেছেন কারণ, আগের ভোটে একজন বিজেপির প্রার্থী ছিলেন। যিনি হেরে গিয়ে ভোটের কালি মুছতে না মুছতেই সোজা চলে গেলেন তৃণমূলে। অর্থাৎ, টালিগঞ্জে যিনি বিজেপি, তিনিই আবার বালিগঞ্জে গিয়ে বিজেপি। ফলে, মানুষ যদি নিজের অভিজ্ঞতায় এইরকম দেখেন, তাহলে তিনি আর ভরসা করে ভোট দেবেন বিজেপিকে? তাই ভরসার একমাত্র পথ বাম। বামেরাই একমাত্র ভরসার কেন্দ্রবিন্দু। টালিগঞ্জে বামেদের ফিরিয়া আনবে মানুষ।"

প্রসঙ্গত, এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা বিদায়ী ক্যাবিনেট মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস এবং বিজেপির হয়ে লড়ছেন অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।