MP CM Mohan Yadav:ভোট প্রচারে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে নিশানা করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তিনি রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু একাধিক বিষয় নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন।
ভোট প্রচারে পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে নিশানা করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। তিনি রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু একাধিক বিষয় নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন। তিনি বলেন,'এই পুণ্যভূমি হলো সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং প্রখ্যাত ভাস্কর রামকিঙ্করের পুণ্যভূমি। আজই নির্বাচনের রণভেরী বেজে উঠল। মমতা দিদির শাসনে আজ সকলেই অতিষ্ঠ। তিনি আরও বলেন, মমতা আর 'দিদি' নন, তিনি এখন 'আপ্পি' হয়ে উঠেছেন। সারা দেশজুড়েই এখন এই কথা শোনা যাচ্ছে।'

বিজেপির জয়ের ব্যাপারে আশাদাবী মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'আপনাদের মুখের দীপ্তিই বলে দিচ্ছে যে ফলাফল আসন্ন—বিজেপিই জিততে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আমরা "সবকা সাথ-সবকা বিকাশ-সবকা বিশ্বাস-সবকা প্রয়াস" মন্ত্রকে পাথেয় করে এগিয়ে চলেছি।' বাম-কংগ্রেস জোট এবং মমতার দল তফসিলি জাতি (SC) ও উপজাতিদের কখনোই যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে, তাঁদের নিজস্ব বাসস্থানের ব্যবস্থা করার মতো সদিচ্ছা ও সাহস একমাত্র বিজেপিরই রয়েছে। আজ দরিদ্র মানুষজন পাকা বাড়ি এবং রেশনের সুবিধা পাচ্ছেন। বর্তমানে 'স্ট্যান্ড-আপ স্কিম'-এর মাধ্যমে তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্তরা ১০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা লাভ করেছেন। এর ফলে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঊর্ধ্বে উঠে এসেছেন।
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মমতাকে নিশানা
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, র্তমান পরিস্থিতিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে একমাত্র বিজেপিই জয়লাভ করবে। মমতা দিদির সরকারের আমলেই 'শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি'র ঘটনা ঘটেছিল, যার ফলে ২৬ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করতে হয়েছিল। তাঁর শাসনকালেই 'প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা দুর্নীতি' এবং 'মনরেগা (MNREGA) দুর্নীতি'র মতো ঘটনা ঘটেছে। মমতা কেবল হিন্দুদেরই অপমান করে চলেছেন। ২৪,৭৮৮টিরও বেশি মিথ্যা মামলা দায়ের করে তিনি বাংলার মা-বোনেদের চরম অসম্মানিত করেছেন। এখন সময় এসেছে এই সমস্ত সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধানের। এখন সময় এসেছে বাংলাকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। স্বাধীনতার পূর্বে বাংলাই ছিল মেধা ও প্রতিভার বিচারে দেশের শীর্ষস্থানে। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, প্রথমে কমিউনিস্টরা এবং পরবর্তীতে মমতার দল—উভয়েই রাজ্যের শাসনক্ষমতার 'অগ্নিকুণ্ডে' বসেছে। আজ সেই সব কৃতকর্মের হিসাব চুকিয়ে দেওয়ার সময় উপস্থিত। আমরা সকলেই জানি যে, বিজেপি এবার বাজিমাত করে জয়লাভ করতে চলেছে। আমাদের ঘরে ঘরে যেতে হবে, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হবে; আমরা বাংলায় 'পদ্ম' ফোটানোর এই ধারা অব্যাহত রাখব এবং বিজেপিকে বিজয়ী করে চলব। যতক্ষণ না প্রতিটি ভোট বিজেপির ঝুলিতে জমা পড়ছে, ততক্ষণ আমাদের বিন্দুমাত্র বিশ্রাম বা স্বস্তি নেই।


