নবান্নের তরফে দেওয়া বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে এই ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়লে সাধারণ মানুষের কী করা উচিত।

বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ। যার জেরে আগামী তিনদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। এই পরিস্থিতিতে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। নবান্নের তরফে দেওয়া বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে এই ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়লে সাধারণ মানুষের কী করা উচিত। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

রাজ্যের প্রথম সারির বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে এই বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে সুরক্ষিত উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে,ব্যাটারি চালিত রেডিও ব্যবহার করতে হবে। সরকারি আবহাওয়া সংক্রান্ত পূর্বাভাসগুলির ওপর নজর রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। 

এদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়তে চলেছে জাওয়াদ। ১০০ কিমি প্রতি ঘন্টা বেগে আছড়ে পড়তে পারে এই সাইক্লোন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ক্যাবিনেট সেক্রেটারি সব উপকূলীয় রাজ্য ও মন্ত্রকের মুখ্য সচিবদের সঙ্গে পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং রাজ্য সরকার, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সাথে যোগাযোগ করছে বলে জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই সমস্ত রাজ্যে SDRF-এর প্রথম দলকে পাঠিয়ে দিয়েছে। এনডিআরএফ রাজ্যগুলিতে ২৯টি দলকে আগে থেকে মোতায়েন রেখেছে ও ৩৩টি দলকে স্ট্যান্ডবাইতে রেখেছে বলে খবর। 

ভারতীয় কোস্ট গার্ড এবং নৌবাহিনী ত্রাণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য জাহাজ এবং হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে। বিমান বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার টাস্কফোর্স ইউনিট, নৌকা এবং উদ্ধার সরঞ্জাম সহ, স্থাপনার জন্য স্ট্যান্ডবাই রয়েছে। নজরদারি বিমান ও হেলিকপ্টার উপকূল বরাবর ধারাবাহিক নজরদারি চালাচ্ছে। দুর্যোগ ত্রাণ দল এবং মেডিকেল টিম পূর্ব উপকূল বরাবর অবস্থানে স্ট্যান্ডবাই আছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। 

শাহিনের পর এবার ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ। সৌদি আরবের দেওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের অর্থ উদার বা মহান। থাইল্যান্ডের নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে বঙ্গোপসাগরে। আবহাওয়া দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে জাওয়াদ। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমশ দক্ষিণ আন্দামান সাগরে ঢুকবে। আগামীকাল এটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপ রূপে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ দক্ষিণ-পূর্ব পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এ অবস্থান করবে। 

শক্তি সঞ্চয় করে সেখানেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে এই গভীর নিম্নচাপ। ঘূর্ণিঝড়ের নাম হবে জাওয়াদ। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর এর অভিমুখ হবে উত্তর-পশ্চিম দিকে। শনিবার সকালে এটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ অথবা উড়িষ্যা উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা।এর প্রভাবে বাংলার উপকূলে সমুদ্র উত্তাল হবে। এদিকে, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের জেরে দুর্যোগের আশঙ্কায় একাধিক ট্রেন বাতিল করেছে রেল।