দেশের অন্যতম পুরনো স্টক এক্সচেঞ্জ, ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে (CSE) ফের চাঙ্গা করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, এর ঐতিহ্য বাঁচিয়ে কলকাতাকে আবার একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য। 

দেশের অন্যতম পুরনো স্টক এক্সচেঞ্জ, ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জকে (CSE) ফের চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর ঐতিহ্য বাঁচিয়ে কলকাতাকে একটি আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় এএনআই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে একথা জানান রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, রাজ্য সরকার মনে করে যে কলকাতাকে তার স্টক এক্সচেঞ্জ বাঁচিয়ে রাখতেই হবে। তবে এই কাজটা যে খুব সহজ হবে না, সেটাও তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "দেখুন, আমরা বিশ্বাস করি যে কলকাতার এই স্টক এক্সচেঞ্জকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। তবে প্রযুক্তি-সহ আরও অনেক কারণে এই কাজটা খুব সহজ হবে না। আসল চ্যালেঞ্জটা হল, যে সব কোম্পানির সদর দফতর এখনও কলকাতায় এবং যারা কলকাতা স্টক এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত, তাদের আরবিট্রেজ থেকে ট্রেডিং-এর দিকে নিয়ে আসা। আমরা সেই পথই খুঁজছি।"

মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে পূর্ব ভারতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কলকাতাকে আবার দেশের অন্যতম প্রধান আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের ইতিহাস প্রায় দু'শ বছরের পুরনো। কলকাতায় স্টক ট্রেডিংয়ের শুরুটা হয়েছিল ১৮৩০ সাল নাগাদ, একটি নিম গাছের নিচে। সেই সময় দালালরা কোনও স্থায়ী পরিকাঠামো ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে লেনদেন করতেন।

এইভাবে কাজ করতে অসুবিধা হওয়ায় দালালরা নিজেদের সংগঠিত করার কথা ভাবেন। এর ফলস্বরূপ, ১৯০৮ সালের মে মাসে ২, চায়না বাজার স্ট্রিটের ঠিকানায় ১৫০ জন সদস্যকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন' তৈরি হয়।

একটা সময়ে এই এক্সচেঞ্জ দেশের অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জ হয়ে ওঠে এবং পূর্ব ভারতে পুঁজি বাজার তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অর্থমন্ত্রীর মতে, আজকের দিনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল বাজারের পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানকে খাপ খাইয়ে নেওয়া। পাশাপাশি, ঐতিহাসিকভাবে এর সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলো যাতে এর পুনরুজ্জীবনে লাভবান হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

রাজ্য যখন নতুন বিনিয়োগ টানার চেষ্টা করছে, ঠিক সেই সময়েই স্টক এক্সচেঞ্জকে পুনরুজ্জীবিত করার এই প্রস্তাব এল। এর মাধ্যমে ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কলকাতার ঐতিহাসিক ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।